কালীঘাটে তুমুল উত্তেজনা! অভিষেকের বাড়ির দিকে এগোতেই বিজেপির সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি?

শনিবার দুপুরে ফের রনক্ষেত্র হয়ে উঠল কালীঘাট এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েতকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি ও বচসা শুরু হয়।
কী ঘটেছিল কালীঘাটে? কালীঘাট ও অভিষেকের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে আগেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করেছিল পুলিশ। ফলে এলাকাটিতে যে কোনো ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। শনিবার দুপুরে ১৬৩ ধারা মান্য করে ভিড় সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত লোকজন।
এর পরই আচমকা সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের বসানো ব্যারিকেড উপেক্ষা করে সরাসরি অভিষেকের বাড়ির দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুরো এলাকা থমথমে হয়ে ওঠে।
বিজেপির অভিযোগ ও পটুয়াপাড়ার সমস্যা বিজেপির দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সুরক্ষার নামে পটুয়াপাড়া ও কালীঘাট এলাকায় যেভাবে একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, তাতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। কালীপুজোর এই মরশুমে ব্যবসায়ীরা তৈরি করা প্রতিমা সঠিক সময়ে বাইরে নিয়ে যেতে পারছেন না। সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে বাধা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিজেপি এই প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলে।
শুভেন্দুর কড়া আক্রমণ অন্যদিকে, শনিবার সকালেই মানিকতলায় একটি ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কালীঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে জবাব দেন। শুভেন্দু বলেন, “কালীমায়ের সামনে কেন মাফিয়াদের নাম নিচ্ছেন? এদের নাম নিয়ে পবিত্র কালীমন্দির প্রাঙ্গণকে অপবিত্র করবেন না।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে ১৬৩ ধারা কার্যকর রাখতে পুলিশের ভূমিকা এবং অন্যদিকে পটুয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অস্ত্র বানিয়ে বিজেপির এই ঝটিকা আন্দোলন—সব মিলিয়ে কালীপুজোর মুখেই কালীঘাটের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল।