২১ জুলাইয়ের কমিশনে কারসাজি? মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রতর!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল ঐতিহাসিক ২১ জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলির বঞ্চনা এবং এক দশক আগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে। বিগত বেশ কিছুদিন আগেই ২১ জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে বিচারপতি চ্যাটার্জির সেই বিতর্কিত রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাঠ করে শোনানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত পরিবারগুলির পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। আর এই আবহেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উলুবেড়িয়ার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি তাঁর দ্বারস্থ হলেন দীর্ঘ লড়াইয়ের সাক্ষী থাকা এক শহীদ পরিবার।

বনগাঁর নিহত শহীদ রঞ্জিত দাসের ছেলে রজত দাস এবং তাঁর মা এদিন সশরীরে হাজির হন বিরোধী দলনেতার অফিসে। বিগত বাম জমানার শেষ দিকে বা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কোনো রকমে একটি অস্থায়ী চাকরির সুযোগ পেলেও, পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পালাবদলে সেই চাকরিও হাতছাড়া হয়ে যায় রজতের। সুদীর্ঘ পনেরো বছর ধরে জুতো ক্ষয় করে সম্প্রতি একটি চাকরি পেলেও গত অগাস্ট মাসে সেই চাকরি আবারও চলে যাওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন ওই শহীদ পরিবার। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁরা আইনের পথ ছেড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিকারের আশায় বিরোধী দলনেতার শরণাপন্ন হয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে বলেন, “যে শহীদ পরিবারগুলোর রক্তের ওপর পা রেখে বর্তমান সুপ্রিম নেতৃত্ব ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই পরিবারগুলোর সঙ্গেই আজ নির্মম প্রবঞ্চনা করা হয়েছে। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তো এই পরিবারগুলোর সবথেকে আগে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার পাওয়া উচিত ছিল।” তাঁর আরও অভিযোগ, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারপিছু যে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, তা তো দূরঅস্ত, উল্টে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে চাকরি বিক্রির সিন্ডিকেট চলেছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের জেরে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই একাধিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পালিত হয়েছিল। নব্য তৃণমূলের নবগঠিত মঞ্চ থেকেই একসময়ের ২১ জুলাইয়ের শহীদদের প্রকৃত মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে সেদিনের মঞ্চ থেকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এতদিন কেন সেই তদন্ত কমিশন ও বিচারপতির রিপোর্ট সুকৌশলে আড়াল করে রাখা হয়েছিল? একইসঙ্গে সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত ওই রিপোর্ট ঘিরেও একাধিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। কেন সেদিন নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল এবং কেনই বা একের পর এক কমিশনের রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।