“২০ জন সাংসদ আমাদের সাথে”-মমতা-বিরোধী পালে হাওয়া দিয়ে বিস্ফোরক কাকলি ঘোষ

‘আসল তৃণমূল’ কে? এই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনীতিতে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। বৃহস্পতিবার বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করলেন, তাঁদের কাছেই রয়েছে ২০ জন সাংসদের সমর্থন। তাই গাণিতিক ও আইনি পথে তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’।

এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত: কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বিদ্রোহী শিবির এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য এখন নির্বাচন কমিশনের (EC) আইনি স্বীকৃতি পাওয়া। কাকলির কথায়, “নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন, তাই আমরাই প্রকৃত তৃণমূল।”

মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও একনাথ শিন্ডের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গেও মমতার হাত থেকে প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শিন্ডে গোষ্ঠীর মতোই বিদ্রোহী সাংসদরা এখন প্রতীকের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।

ভোটের হারের যুক্তি উড়িয়ে দিলেন কাকলি: তৃণমূলে এই বিদ্রোহ কি কেবলই বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরিণাম? এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাকলি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, গত ২ বছর ধরেই এই পরিকল্পনা চলছে। মমতার সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক, কিন্তু দল পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো হচ্ছিল, তা মেনে নেওয়া যাচ্ছিল না।”

ঋতব্রত ও কল্যাণ প্রসঙ্গে: বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের শিবিরের সম্পর্ক নিয়ে কাকলি বলেন, “ঋতব্রত কী করতে চান, সেটা তাঁর বিষয়, আমাদের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।” একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সম্প্রতি তৃণমূলের মামলা থেকে সরে যাওয়া আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই এবং উল্টে কল্যাণের বিরুদ্ধে তিনি আইনি অভিযোগও দায়ের করেছেন।

রাজনৈতিক উত্তাপ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অন্ত এবং তার পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। একদিকে মমতার প্রতি অনুগত শিবির, অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ‘এনডিএ-পন্থী’ বিদ্রোহী শিবির—দুই পক্ষের লড়াই এখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে ঘাসফুল প্রতীক থাকবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।