২০ কেজি ওজন বাড়িয়েও বড় পর্দায় এন্ট্রি পিছোল! ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ নিয়ে টলিপাড়ায় শোরগোল

কালীপুজো মানেই আলোয় সেজে ওঠা চারপাশ, বাজির রোশনাই আর উৎসবের আমেজ। আর এই উৎসবের মরশুমেই বাঙালির ড্রয়িংরুম থেকে সোজা বড়পর্দায় ভক্তি ও অলৌকিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন নিয়ে ঝড় তোলার কথা ছিল ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ছবির। কিন্তু উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ (SVF)। আগামী ৫ নভেম্বর ছবিটির প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এসে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলেই এখন একটাই ফিসফিসানি—কেন এমন হুট করে পিছিয়ে গেল ছবিটির মুক্তির দিন?
🎬 কেন পিছোল ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র মুক্তি?
উৎসবের মরশুমে রণবীর কাপুরের বহুচর্চিত এবং প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার বাজেটের মেগা প্রজেক্ট ‘রামায়ণ’ (পরিচালনা নীতেশ তিওয়ারি) দেশজুড়ে বড় পর্দায় ঝড় তুলতে চলেছে। একদিকে মহাকাব্য রামায়ণ, আর অন্যদিকে বাংলার মাটির গন্ধ মাখা বামাক্ষ্যাপার আধ্যাত্মিক জীবনী—এই দুই বড় ছবির মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযোজনা সংস্থার অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, দর্শক যাতে কোনো ভাগাভাগি ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে ‘রামায়ণ’ উপভোগ করতে পারেন, সেই কথা মাথায় রেখেই সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র মুক্তির তারিখ বদল করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ নভেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি পেতে পারে এই ছবি। খুব শীঘ্রই নতুন তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে প্রযোজনা সংস্থা।
🎭 সব্যসাচী-পায়েলের কামব্যাক ও মেকওভার
ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’-এ সাধক বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে সব্যসাচী চৌধুরীর নিখুঁত ও জীবন্ত অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমলিন। এমনকি ‘সাধক রামপ্রসাদ’-এও এই জুটির রসায়ন মন জয় করেছিল। এবার বড় পর্দায় সেই ম্যাজিক ফেরাতে চলেছেন তাঁরা।
ছবির জন্য নিজেকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে গড়েছেন সব্যসাচী। চরিত্রটিকে পর্দায় বাস্তবসম্মত করতে তিনি প্রায় ২০ কেজি ওজন বাড়িয়েছেন। ছবিতে সব্যসাচীর বিপরীতে ‘মা তারা’-র ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পায়েল দে। সায়ন্তন ঘোষালের পরিচালনায় এবং সব্যসাচী চৌধুরীর সৃজনশীল পরিচালনায় এই ছবিতে আরও দেখা যাবে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি, ছবির মনমাতানো সুর বেঁধেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।
বামা-তারার অলৌকিক ভক্তি রসায়ন বড় পর্দায় দেখতে বাঙালি দর্শককে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হলেও, নির্মাতাদের বিশ্বাস—এই ছবি শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে!