২০২৯-এর মধ্যে ২১ রাজ্যে ইউসিসি! অমিত শাহের মেগা প্ল্যান ধাক্কা খাচ্ছে শরিকদের দরকষাকষিতে?

আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার জন্য একটি বড়সড় ও সময়সীমাবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শগত এজেন্ডার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, লক্ষ্যপূরণের পথটি যে কতটা জটিল ও চ্যালেঞ্জিং, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিন দিন।

বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি কার্যকর হয়েছে এবং গুজরাটে এই সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশ, গোয়া ও মণিপুরের মতো রাজ্যে এর প্রয়োগ নিয়ে এখনও আলোচনা ও মতপার্থক্য কাটেনি।

নির্বাচনী সমীকরণ ও ক্ষমতার টানাপোড়েন

ইউসিসি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আগামী কয়েক বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলোর সমীকরণ।

  • আসন্ন নির্বাচন: পাঞ্জাব (আম আদমি পার্টি শাসিত) ও হিমাচল প্রদেশ (কংগ্রেস শাসিত) ছাড়াও উত্তর প্রদেশ, গোয়া এবং মণিপুরে নির্বাচন আসন্ন। এর মধ্যে বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে এখনও বিল পাস হয়নি, আর রাজ্যটিতে নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে।

  • ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচন: ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, কর্ণাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে এনডিএ জোটের শরিকরা ক্ষমতায় রয়েছে।

ক্ষমতার পালাবদল হলে বা জোট সরকারগুলোতে শরিকরা ইউসিসি না মানলে ২০২৯ সালের মধ্যে ২১টি রাজ্যের লক্ষ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এনডিএ শরিকদের দ্বিধা ও ভিন্ন অবস্থান

বিজেপির এই মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এনডিএ-র অন্যতম প্রধান মিত্র দলগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে:

  • তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি): টিডিপির পক্ষ থেকে ইউসিসি-র প্রতি নীতিগত সমর্থন ব্যক্ত করা হলেও, দলের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়নি।

  • জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ): নীতিগতভাবেই ইউসিসি-র তীব্র বিরোধিতা করছে জেডিইউ। দলটির স্পষ্ট বক্তব্য, বিহারে কোনোভাবেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা যাবে না।

  • লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি): চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বাধীন এলজেপি একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রকাশ ও সব অংশীজনদের সাথে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানিয়েছে।

  • অন্যান্য শরিক: শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) ও এইচএএম (সন্তোষ কুমার সুমন) সরাসরি সমর্থন জানালেও এনসিপি-র মতো দলগুলো এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।

আদিবাসী এলাকা ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য

উত্তরাখণ্ড মডেল অনুসরণ করে ইউসিসি-তে আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে ছাড় দেওয়া হলেও, মণিপুর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে উপজাতি সংস্কৃতির সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ইউসিসি মেনে নিতে রাজি নয়।

সব মিলিয়ে অমিত শাহ ২০২৯ সালের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিলেও, বিরোধী শিবিরের কড়া আক্রমণ এবং নিজস্ব এনডিএ শরিকদের আপত্তির মুখে পড়ে ২১টি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করার এই মেগা প্ল্যান এখন এক বিরাট রাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে দাঁড়াল।