হেয়ার স্টাইল ও মেকআপেই সাড়ে ৪ কোটি খরচ! ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল জীবনযাত্রার হিসাব প্রকাশ্যে

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে সুযোগ-সুবিধা তো মিলবেই, কিন্তু হেয়ার স্টাইল এবং মেকআপের পেছনেই যদি সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়, তবে তা নিয়ে জলঘোলা হওয়াই স্বাভাবিক। সম্প্রতি ইজরায়েল সরকারের প্রকাশ করা এক সরকারি তথ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত প্রসাধন ও রূপটানের পিছনে চলা বিপুল খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় দাখিল করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে ইজরায়েল সরকার ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অগাস্ট মাস পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে হওয়া এই খরচের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। সামনে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই দীর্ঘ সময়ে হেয়ার স্টাইল ও মেকআপ খাতে মোট ৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যার প্রায় ৯০ শতাংশই ব্যয় হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রূপটানের পিছনে।

প্রকাশিত তথ্যে আরও দেখা গিয়েছে, বিগত বছরগুলিতে এই খরচের পরিমাণ কেবল বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু যখনই ক্ষমতায় ফিরেছেন, এই খাতে খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে নাফতালি বেনেট এবং ইয়ের লাপিদ যখন স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন মেকআপ ও চুল বাঁধার পেছনে মাত্র ২৬.৩৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতা দখল করার পরেই সেই খরচ লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ১ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলে। ২০২৫ সালে এই প্রসাধন খাতে সর্বমোট ১ কোটি ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে দেখা গেছে।

শুধু দেশেই নয়, বিদেশ সফরে গিয়েও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কমতি ছিল না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র চারদিনের আমেরিকা সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর হেয়ার ও মেকআপ বাবদ খরচ হয়েছিল ১২.৯ লক্ষ টাকা। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ওয়াশিংটন সফরেও এই খাতে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। পোশাক-আশাক এবং আতিথেয়তার খরচ এর বাইরে রাখা হয়েছে, যেখানে শুধু নেতানিয়াহুর জন্যই প্রায় ১.২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধের মতো চরম জাতীয় সংকটের সময়েও প্রধানমন্ত্রীর এহেন বিলাসী জীবনযাপন এবং জলের মতো অর্থ অপচয়ের খবর প্রকাশ্যে আসায় ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।