“হিম্মত থাকলে আমার বুকে বুলডোজার চালাও!” কালীঘাট কান্ডে পুলিশকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ মমতার, তোলপাড় বাংলা

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার রাতের এই ঘটনার প্রতিবাদে সরাসরি রাস্তায় নেমে ধর্নায় বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শনিবার সকালে সেই ধর্নামঞ্চে পৌঁছেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশ ও প্রতিপক্ষকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনাদের কত বুলডোজার আছে? আমাদের বুকে, আমাদের শরীরের ওপর বুলডোজার চালান! হিম্মত থাকলে আমার বুকে বুলডোজার চালিয়ে দেখান।”
অভিষেকের কার্যালয়ে ভাঙচুর, মাঝরাতেই ধর্না
শুক্রবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ ওঠে, কিছু দুষ্কৃতী ও রাজনৈতিক কর্মী অভিষেকের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাতেই নিজের বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাট থানার ওসি-কে তীব্র আক্রমণ
শনিবার সকালে ধর্নামঞ্চে হাজির হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার সময়ের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC)-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, পুলিশের সামনেই এমন বেআইনি কাজ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
চরম উত্তেজনায় রাজ্য রাজনীতি
কালীঘাটের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় এই ধরনের সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মারমুখী অবস্থানকে কেন্দ্র করে কলকাতা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ওপর এই সরাসরি আক্রমণের পর কলকাতা পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্যের।