হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখির মেলা! লেন্সে ধরা পড়ল বিরল সৌন্দর্যের রূপকথা

প্রতিবছর শীতের আগমন ঘটলেই হাজার হাজার মাইল দূর থেকে বাংলাদেশে হাজির হয় বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী বা অতিথি পাখি। সাইবেরিয়ার কনকনে তুন্দ্রা অঞ্চল, হিমালয়ের পারাদ্বীপ, ইউরোপ, আফ্রিকা কিংবা মধ্য এশিয়ার বরফাবৃত ভূখণ্ড থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এরা এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের হাওড়, বিল, নলবন ও নদ-নদীতে। প্রকৃতির এই অপরূপ মেলা এবং দূরদেশের ডানাওয়ালা অতিথিদের নিজেদের ক্যামেরার লেন্সে অসাধারণভাবে বন্দি করেছেন বাংলাদেশি বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীরা।
আলোকচিত্রীদের তোলা এসব ছবিতে দেখা মেলে ‘খয়রা চখাচখি’ বা চকাচকির, প্রায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে যাদের আবাস। এছাড়া ২০২১ সালে ঢাকায় ক্যামেরাবন্দি হয় একাকী থাকতে পছন্দ করা ‘নীলগলা ফিদ্দা’। ফেনীর মুহুরি প্রজেক্টে পরিযায়ী গাঙচিল ও স্থানীয় বকের অনন্য মেলবন্ধন তুলে ধরেছেন অনীক চন্দ। অন্যদিকে ২০১৭ সালে রাজশাহীতে সাইফুদ্দিন সাইফের ক্যামেরায় ধরা দেয় মধ্য এশিয়া থেকে আসা সুন্দর ‘দাগি রাজহাঁস’, যা শীত শেষে প্রজননের জন্য আবার পার্বত্য হ্রদে ফিরে যায়। একই আলোকচিত্রী ২০২০ সালে হবিগঞ্জে বিরল ‘চিতিপাখ শালিক’-এর মুহূর্তও ফ্রেমবন্দি করেন।
চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকায় ২০২৫ সালে রিজওয়ানুল আলমের লেন্সে দেখা মেলে সাইবেরিয়ার তাইগ্যা অঞ্চলের পোকা-খেকো অনন্য ‘সাইবেরীয় চুনিকণ্ঠী’। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ২০২৬ সালে মাইনুল এইচ তানভীরের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে উত্তর আমেরিকা ও ইউরেশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল থেকে আসা উজ্জ্বল ‘নীলশীর’ বা নীলমাথা হাঁস। একই হাওড়ে ২০১৩ ও ২০২৩ সাল নাগাদ রক্তিম সৌন্দর্যের ‘রাঙ্গামুড়ি’ বা লালঝুঁটি ভুতিহাঁসের অপরূপ ছবি তোলেন চিকিৎসক বাসিত-উর-রশিদ। পাশাপাশি ২০২০ সালে ঢাকায় তুলে আনা হয় পরিযায়ী ‘ইউরেশীয় মেঠো কাঠঠোকরা’র বিশেষ ছবি, যা মূলত খোলা মাঠ ও ফলের বাগানে বিচরণ করে। পরিযায়ী পাখিদের এই জলজ ও আকাশমুখী আনাগোনা বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।