সৌদি আরবকে রক্ষা করতে পারবে কি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত পাকিস্তান? ঘুরছে হিসাব!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। একদিকে যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, অন্যদিকে ঠিক সেই সময়েই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান। খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইন্স বোমা বিস্ফোরণ এবং বেলুচিস্তানের লাগাতার সামরিক অভিযান দেশটির ভঙ্গুর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নিজস্ব ঘর সামলে সৌদি আরব রক্ষায় মक्का চুক্তির কার্যকর প্রয়োগে পাকিস্তান আদৌ কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারবে কি না।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি বনাম বাস্তবের চিত্র

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ যদিও মक्का চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন এবং দেশটির সেনা মুখপাত্র একে পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই বড়াই কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দেশের ভেতরে জঙ্গি হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জেরে পাকিস্তান নিজেই এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আমেরিকা ও ইরানের দ্বন্দ্বে নতুন সমীকরণ

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের আরও একটি বড় দিক হলো আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র বৈরিতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড়োসর নতুন সামরিক আক্রমণের কথা தீவிரভাবে বিবেচনা করছেন। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে বর্তমানে ইন্টারসেপ্টর এবং টॉमহক ক্রুজ মিসাইলের মতো কৌশলগত উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। এই লজিস্টিক বা সামরিক উপাদানের সীমাবদ্ধতাই আগামী দিনে ওয়াশিংটনের বড় মাপের কোনো স্থায়ী সামরিক অভিযানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।