“সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক যাক!” হঠাৎ কাকে এমন বিষম কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী?

শুক্রবার সল্টলেকে জনতার দরবারে হাজির হয়ে একাধিক সমসাময়িক বিষয়ে অত্যন্ত কড়া ও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবন ও প্রশাসনিক মহলের টানাপোড়েনের মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর গলায় শোনা যায় তীব্র কটাক্ষের সুর। নাম না করে এক শীর্ষ রাজনীতিকের প্রতি ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী বিতর্ক উসকে দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘‘ওঁর মনে হয় সোডিয়াম পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে যাক, আমরা এনওসি দিয়ে দেব।’’
তৃণমূল কংগ্রেস ও শাসক দলের পুরোনো জমানার ওপর আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মনে হয়েছে ওঁর যে টাকা তুলত, ওরা ১৫ বছর সরকারে ছিল তো, ওদেরও দু-চারটে লোক এখনও থেকে থাকতে পারে, যারা ফেস টাইমে কথা বলে।’’ এখানেই না থেমে তিনি যোগ করেন, ‘‘আমার মনে হয়, ওর যে চ্যালাটা মাল তুলত, তাকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ পিসি-তে নিয়েছে, সে সব বলে দিয়েছে, সেটা সে জানতে পেরে গেছে। তাই এসব বলছে। নিউ ইয়র্কে যাক, আমরা এনওসি দিয়ে দেব।’’ শুভেন্দুর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, ঠিক তার আগের দিনই একাধিক ইস্যু নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতিমতো গর্জে উঠেছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজল শেখের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘বেছে বেছে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে, তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কাজল শেখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন বলে তাঁর বাড়িতে তাণ্ডব করা হচ্ছে, তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। বাপের জমিদারি নাকি পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর স্বরাষ্ট্র দফতরটা?’’
একইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সতর্ক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ‘‘যারা ভাবছেন শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে কাজ করবেন, তাঁদের প্রতিটি অফিসারকে সচেতন করে যাচ্ছি, যখন সরকার পাল্টাবে, তখন কেউ বাঁচাবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’’ অভিষেকের এই চরম হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সল্টলেক থেকে পাল্টা তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নাম না করে হলেও দুই শীর্ষ নেতার এই বাক্যবাণে আপাতত উত্তপ্ত কলকাতার রাজনীতি।