মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে শুটিং ফ্লোরে! হার্ট অ্যাটাক নিয়েও ক্যামেরার সামনে মহাতারকা রঘুবীর যাদব!

নিজস্ব সুনিপুণ অভিনয় শৈলী এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রের জাদুতে বহু দশক ধরে ভারতীয় দর্শকদের মুগ্ধ করে আসছেন বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা রঘুবীর যাদব। পর্দায় তিনি যখনই কোনো চরিত্রে অবতীর্ণ হন, তখনই তা জীবন্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত বহুল আলোচিত ছবি ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’ (Hunkar: The Roar)-এর একটি বিশেষ ও অত্যন্ত তীব্র আদালতের দৃশ্য ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর, চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। যা শুনে যে কারো রক্ত হিম হয়ে আসতে পারে। জানা গিয়েছে, ওই ছবির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন আদালতের দৃশ্যের শুটিংয়ের ঠিক আগের রাতেই আকস্মিক ও মারাত্মক হৃদরোগের (Heart Attack) কবলে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক চরম অসুস্থতা, হাসপাতালের বিছানার মোহ ত্যাগ এবং বুকচাপা সেই তীব্র যন্ত্রণা তুচ্ছ করেই অদম্য মনের জোরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শুটিং সম্পূর্ণ করেছিলেন রঘুবীর।
উক্ত সিনেমায় রঘুবীর যাদবকে একজন ভণ্ড ও ধূর্ত আধ্যাত্মিক প্রচারক বা গুরুর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল ‘বাপজি’। ধর্মীয় প্রচারের আড়ালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের শোষণের মতো অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অন্ধকার জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই চরিত্রটি। এই ধরনের একটি জটিল, নেতিবাচক ও বহুস্তরীয় চরিত্রে নিখুঁতভাবে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে বহু কসরত ও প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। তবে এই কুখ্যাত চরিত্রের নেপথ্যের শুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনী আদতে একেবারেই সুখকর বা সহজ ছিল না, বরং তা ছিল চরম লড়াইয়ের এক জীবন্ত দলিল।
অভিনেতা নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানিয়েছেন যে, সবচেয়ে কঠিন ও ভীতিকর বিষয় ছিল আদালতের ওই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ দৃশ্যটির ঠিক আগের রাতেই তাঁর মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক হওয়া। বুকের ভেতর সেই অসহ্য তীব্র যন্ত্রণা এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইকে নিঃশব্দে সঙ্গী করেই তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং কোনও রকম পেশাদার আপস ছাড়াই নিজের কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন। রঘুবীর অত্যন্ত খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন যে, ওই বিশেষ দৃশ্যের জন্য তাঁকে আলাদা করে বিন্দুমাত্র কৃত্রিম আবেগ বা গ্লিসারিন তৈরি করতে হয়নি। কারণ হৃদরোগের সেই নির্মম শারীরিক কষ্ট এবং অন্তরের চরম যন্ত্রণাই তাঁর অভিনয়ে সততা, ক্ষোভ ও নিখাদ অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে জাদুর মতো কাজ করেছিল।
এই প্রসঙ্গে প্রবীণ অভিনেতা রঘুবীর যাদব এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “কিছুই আমি আলাদা করে তৈরি করিনি। যা হয়েছিল, সবটাই ভেতর থেকে উঠে এসেছিল। আলাদা ভাবে কোনো কিছুর প্রয়োজনও পড়েনি।” উল্লেখ্য, ‘বাপজি’ চরিত্রটির মধ্যে বহুমুখী এবং অন্ধকার নানা শেড বা স্তর রয়েছে, যার মধ্যে সন্তানের সৎকারের মতো অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। তবে শুটিংয়ের সময় শারীরিক অসুস্থতা ও হৃদরোগের সেই তীব্র যন্ত্রণা যে পর্দায় ওই বিশেষ চরিত্রটির আবেগ ও গভীরতা ফুটিয়ে তুলতে মারাত্মকভাবে সাহায্য করেছিল, তা আজ আর কারোরই অজানা নয়। মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে এসে শিল্পীর এই রূপায়ণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।