সারদা থেকে নিয়োগ—সবাই গেল জেলের ঘানি টানতে, এবার ইডির নথিতে সরাসরি নাম জড়াল খোদ মমতার!

কখনও সারদা কেলেঙ্কারিতে মদন মিত্র, কখনও নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, আবার কখনও রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক— অতীতে বারবার দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা হয়েছে শাসকশিবির। তৃণমূল স্তরের মানুষের একাংশের মুখে বারবার শোনা গিয়েছে, তৃণমূলের বাকি সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাইরে। তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথমবার ইডির নথিতে নাম উঠে এল মমতার। ইউনেস্কোকে সামনে রেখে বেআইনিভাবে দুর্গাপুজোর ‘টিকিট’ বিক্রি এবং সেই দুর্নীতির টাকা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
দিলীপ ঘোষের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘দেখুন নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি রেখে বাকি সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নেতামন্ত্রীরা জেলে যাচ্ছেন, উনার গায়ে কোনও কালি লাগেনি। এই চালাকিটা বেশিদিন চলবে না।’’ এরপরই তিনি তোপ দেগে বলেন, ‘‘এই বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওনার চিরদিনের। পুরো পার্টি আজকে ডুবে গেছে। নেতামন্ত্রিরা সবাই কলুষিত হয়ে গেছে। উনি বেঁচে ছিলেন। আজকে তাদেরকে দিয়ে বের হচ্ছে আসল ঘটনা।’’
ইডির বিস্ফোরক দাবি ও বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বা টিকিট সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেই ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইডির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‘বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। এটি আমাদের বিশ্বাস, পরিচয়, গর্ব এবং আবেগের অংশ। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মা দুর্গার কাছে মাথা নত করেন এবং পুজোমণ্ডপে যান। দুর্গাপুজোয় ইউনেস্কোর নাম ও লোগো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে লাভ করা এবং টিকিট বিক্রির টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।’’ দলের দাবি, ইডির প্রেস নোটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এটি প্রমাণ করে যে রাজ্যে চলা তোলাবাজি শুধু স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা সুসংগঠিতভাবে একেবারে শীর্ষস্তর থেকে পরিচালিত হতো।