সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আসছে বিপ্লব! প্রথমবার চালু হচ্ছে ভিএআর প্রযুক্তি, ফাইনালে থাকছেন বিশেষ অতিথি

ফুটবলের আঙিনায় পাকিস্তানের চেয়ে ভারত যে সবসময়ই এগিয়ে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলার পর এবার বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে (SAFF Football Championship 2026) মাঠে নামছে ভারতীয় দল। আর এই টুর্নামেন্টের শুরুতেই থাকছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—ভারত বনাম পাকিস্তান মহারণ!

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের (Bangladesh) মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই লড়াই। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার (Dhaka) মাটিতে শুরু হতে চলা এই প্রতিযোগিতার সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলিও একে একে ঢাকায় এসে পৌঁছতে শুরু করেছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকায় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন থেকেই চরমে।

আসরে অংশ নিচ্ছে ছ’টি দেশ: এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ছ’টি দল শিরোপার জন্য লড়বে। আয়োজক বাংলাদেশ ছাড়াও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান (Bhutan), মালদ্বীপ (Maldives) এবং শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। তবে ফিফা (FIFA)-র নির্বাসনের কারণে দুর্ভাগ্যবশত এবারের টুর্নামেন্টে খেলতে পারছে না নেপাল (Nepal)।

সাফ-এর সচিব পি কাটেল সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বাদে বাংলাদেশে এমন একটি মহাযজ্ঞ আয়োজন করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নভেম্বর মাসকেই এই টুর্নামেন্টের জন্য সেরা সময় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা যে এক দুর্দান্ত উৎসবের সাক্ষী থাকতে চলেছেন, সে বিষয়ে আশাবাদী আয়োজকরা। প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman)।

সাফ ফুটবলে প্রথমবারের জন্য ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি: এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ বা VAR প্রযুক্তির ব্যবহার। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবার এমন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করা হবে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ দেখা যাবে।

সবমিলিয়ে, কূটনৈতিক নানা টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ ছাপিয়ে ঢাকাতে শুরু হওয়া এই সাফ ফুটবল যুদ্ধ যে ক্রীড়াপ্রেমীদের মন জয় করবে, তা বলাই বাহুল্য।