সব মশা রক্ত খায় না! ডেলিজেন্ট-এর এই বৈজ্ঞানিক সত্য জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে!

মশা ঘরে ঢুকলেই আমাদের আতঙ্কে হাত-পা ছুড়তে শুরু করতে হয়। রাতে কানের কাছে এসে একটা মশা গান গাইলে ঘুমের বারোটা বেজে যায়। তার ওপর আবার ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো ভয়াবহ রোগের আতঙ্ক তো সারাক্ষণ লেগেই থাকে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার ঘরের কোণে বা বাগানের গাছে উড়ে বেড়ানো সব মশা কি আদৌ আপনাকে কামড়ায়? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আধুনিক বিজ্ঞান পরিষ্কার জানাচ্ছে যে, মশার গোটা দুনিয়ায় সবার রক্তের প্রতি কোনো লোভ নেই। বরং একটি বিশেষ দলই কেবল মানুষের শরীর থেকে রক্ত টেনে নেয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষ মশা কিন্তু স্বভাবগতভাবে সম্পূর্ণ শান্ত এবং এরা জীবনেও কোনোদিন মানুষকে কামড়ায় না। পুরুষ মশার একমাত্র ও প্রধান খাদ্য হলো গাছের রস আর ফুলের মধু। তাহলে প্রশ্ন আসে, রক্ত চোষার এই জঘন্য কাজটি করে কে? রক্ত চোষার এই পুরো দায়িত্ব পালন করে একমাত্র স্ত্রী মশা। কিন্তু কেন তারা এমন হিংস্র হয়ে ওঠে? মানুষের রক্তের প্রতি কি তাদের জন্মগত কোনো লোভ কাজ করে?

আসলে এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দারুণ জৈবিক কারণ। স্ত্রী মশাদের নিয়মিত ডিম পাড়তে হয়। আর সেই ডিমগুলোকে সঠিকভাবে পুষ্ট ও বড় করে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন এবং আয়রনের অত্যন্ত প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, প্রকৃতিগতভাবে এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান তারা কোনোভাবেই ফুলের রসে পায় না। একমাত্র মানুষ বা অন্যান্য পশুর রক্তেই এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে। তাই বলা চলে, পেট ভরানোর সাধারণ খাদ্যের জন্য নয়, বরং নিজের বংশধরদের বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই স্ত্রী মশা আমাদের রক্ত চুষে খায়।

তবে সব প্রজাতির স্ত্রী মশাও যে শুধু মানুষের রক্তের পেছনে ছোটে, তা কিন্তু নয়। যেমন— কিউলেক্স মশা সাধারণত রাতে উড়ে এসে কামড়ায় এবং এরা পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর রক্ত বেশি পছন্দ করে। অন্যদিকে, এডিস মশা দিনের আলোয় বেশি সক্রিয় থাকে এবং ডেঙ্গির জীবাণু ছড়িয়ে দেয়, যারা মূলত মানুষের রক্ত বেশি টানে। আবার অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায় এবং এরাও প্রধানত রাতে শিকার খোঁজে। আমাদের শরীরের সুনির্দিষ্ট গন্ধ, নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং শরীরের প্রাকৃতিক তাপ মেপে মশা বুঝতে পারে যে ধারেকাছে কোনো মানুষ রয়েছে কি না। তারপর সুযোগ বুঝে চামড়ায় হুল ফুটিয়ে দেয়। তাই পরের বার মশা মারার আগে অবশ্যই মাথায় রাখবেন, আপনার গায়ে যে হুল ফুটিয়েছে, সে নিশ্চিতভাবেই একটি স্ত্রী মশা। আর পুরুষ মশা দিব্যি গাছের ফুলে মুখ গুঁজে মিষ্টি রস খেয়ে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে!