সঙ্গী কি গোপনে প্রাক্তনের স্মৃতিতে বুঁদ? মাত্র ৫টি কায়দার ‘এক্স টেস্ট’-এই খসে পড়বে মনের সব মুখোশ!

নতুন প্রেমে পড়ার অনুভূতি সব সময়ই রঙিন এবং সুন্দর। তবে সম্পর্কের মধুর প্রাথমিক দিনগুলো কাটতেই অনেকের মনে দানা বাঁধে এক গভীর সংশয়—’আমার সঙ্গী কি আসলেই শতভাগ আমার, নাকি তার হৃদয়ের কোনো এক কোণে এখনও রয়ে গেছে পুরোনো প্রাক্তনের ছায়া?’ মুখ ফুটে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেও অনেকেই হয়তো অপ্রিয় সত্য এড়িয়ে যাবেন। কিন্তু মানুষের আচরণ কখনও মিথ্যে বলে না।
মনোবিদদের মতে, সঙ্গী সত্যিই অতীতে আটকে আছেন নাকি জীবনে পুরোপুরি ‘মুভ অন’ করে গেছেন, তা বুঝে নেওয়ার জন্য রয়েছে একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও সহজ ‘এক্স টেস্ট’ (Ex Test)। নিচের ৫টি সহজ পর্যবেক্ষণেই পরিষ্কার হয়ে যাবে আপনার সঙ্গীর মনের আসল হাল।
১. প্রাক্তনের নাম শুনলে আচমকা প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তন
কথাপ্রসঙ্গ বা গল্পের ছলে ইচ্ছে করেই বা ভুলবশত প্রাক্তনের নাম তুলুন। এরপর খেয়াল করুন সঙ্গীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা চোখের ভাষা। যদি সে একদম স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্য বিষয়ে কথা বলা শুরু করে, তবে বুঝে নেবেন সে অতীত ভুলে গেছে। কিন্তু প্রাক্তনের নাম শুনতেই যদি সে প্রচণ্ড রেগে যায়, হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে কিংবা একটানা প্রাক্তনের উদ্দেশ্যে কুৎসা আর ক্ষোভ উগড়ে দিতে থাকে, তবে বুঝতে হবে পুরোনো সেই ক্ষত এখনও টাটকা! অতিরিক্ত বিদ্বেষ কিংবা অতিরিক্ত প্রশংসা—দুটোই প্রাক্তনে আটকে থাকার স্পষ্ট প্রমাণ।
২. সোশ্যাল মিডিয়ায় গোপনে প্রাক্তনের প্রোফাইল স্ক্রোল করা
আজকের ডিজিটাল যুগে এটিই হলো প্রাক্তনে আটকে থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ব্রেকআপের অনেক দিন পরেও আপনার সঙ্গী কি এখনও ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে প্রাক্তনকে ফলো করছে? প্রাক্তনের নতুন কোনো ছবি এলে কি তাতে লাইক দিচ্ছে বা স্টোরি দেখছে? মনোবিদদের মতে, যে মানুষটা সত্যিকারের মানসিক শান্তি পেয়েছে এবং মুভ অন করেছে, সে নিজের সুস্থতার স্বার্থেই অতীতকে ‘ব্লক’ বা ‘মিউট’ করে রাখে। তা না করে চুরি করে প্রোফাইল স্টক করার অভ্যাস থেকে যায় কেবল হৃদয়ে পুরোনো টান থাকলে।
৩. কথায় কথায় প্রাক্তনের সঙ্গে তুলনা টানার বিষাক্ত অভ্যাস
আপনার বর্তমান সঙ্গী কি কথায় কথায় আপনাকে তার প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে তুলনা করে? সে ভালো তুলনা হতে পারে, কিংবা খারাপ। যেমন—”আমার এক্স কিন্তু এই ব্যাপারটা খুব পছন্দ করত” অথবা “তুমিও একদম আমার এক্স-এর মতো করছো!“। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির তুলনার জায়গা থাকে না। যখনই বর্তমান সঙ্গীর ভালো বা খারাপে প্রাক্তনের কথা উঠে আসে, তখনই বুঝবেন তার অবচেতন মনে প্রাক্তনের স্মৃতি সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
৪. প্রাক্তনের উপহার বা স্মৃতি সযত্নে আঁকড়ে রাখা
সঙ্গীর মানিব্যাগ, ফোনের গ্যালারি কিংবা ঘরের ড্রয়ারে কি এখনও প্রাক্তনের দেওয়া বিশেষ উপহার, পুরনো চিঠির বাক্স বা ছবি খুব গুছিয়ে রাখা আছে? ব্রেকআপের পর দু-একটি ছোট জিনিস স্মৃতি হিসেবে ঘরের কোনো কোণে থেকে যাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে যদি সে সেই বস্তুগুলোকে অত্যন্ত আগলে রাখে, ফেলতে না চায় এবং কোনো কারণে সেগুলোর স্পর্শ পেলে আবেগঘন হয়ে পড়ে, তবে বুঝতে হবে সে বর্তমানের চেয়ে অতীতেই বেশি বসবাস করছে।
৫. ভবিষ্যতের বড় কোনো পরিকল্পনায় আপনাকে না রাখা
সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুরু করলেই কি সঙ্গী প্রসঙ্গ বদলে ফেলে? বিয়ে, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আপনাকে জায়গা দিতে সে কি অস্বস্তি বোধ করে? যারা অতীত কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না, তারা সাধারণত নতুন মানুষটির সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি বা ‘কমিটমেন্ট’ দিতে ভয় পায়। সঙ্গী যদি সব সময় বলে—”দেখা যাক, এখন সময় নিই”—তবে আগেভাগেই নিজেকে সচেতন করে তুলুন।
যদি ৩টির বেশি লক্ষণ মিলে যায়, তবে কী করবেন?
এই ৫টি পয়েন্টের মধ্যে ৩ বা তার বেশি লক্ষণ যদি আপনার সঙ্গীর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, তবে স্পষ্ট যে তার মনে প্রাক্তনের জায়গা এখনও খালি হয়নি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে আপনাকে ভালোবাসে না। হয়তো মন থেকে পুরোপুরি জট কাটাতে তার আরেকটু বাড়তি সময় দরকার। এই সময়ে সঙ্গীর সঙ্গে অযথা ঝগড়া বা চিল্লামিল্লি না করে, নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক বাঁচাতে ঠান্ডা মাথায় সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনা করুন।