সকালে ব্রাশ করার সময় এই ১টি ভুল করছেন না তো? অজান্তেই বাড়ছে ক্যানসারের মারাত্মক ঝুঁকি!

সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দাঁত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে আপনি কি জানেন, প্রতিদিনের এই সাধারণ অভ্যাসের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে বড় বিপদের আশঙ্কা? অজান্তেই আমাদের করা কয়েকটি ছোট ছোট ভুল দাঁত ও মাড়ির অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্রাশ করলেই চলে না, জানতে হয় ব্রাশ করার সঠিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিও।
অনেকেরই ধারণা, খুব জোরে দাঁত ঘষলেই হয়তো সব ময়লা ও জীবাণু পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের ওপরের সুরক্ষাকবচ বা ‘এনামেল’ স্থায়ীভাবে ক্ষয়ে যায়। এর ফলে মাড়িতে ক্ষত তৈরি হতে পারে ও দাঁত শিরশির করার সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবসময় নরম ব্রিসলের ব্রাশ দিয়ে আলতো হাতে গোলাকার গতিতে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি, সকালে তাড়াহুড়ো করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ব্রাশ শেষ করার প্রবণতাও ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, দিনে দু’বার এবং প্রতিবার অন্তত পূর্ণ দুই মিনিট ধরে দাঁতের প্রতিটি কোণ সময় নিয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
দাঁতের যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ মানুষই জিভ পরিষ্কার করতে ভুলে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের পাশাপাশি জিভের ওপর জমে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুখের দুর্গন্ধের মূল কারণ। তাই নিয়ম করে জিভ পরিষ্কার করাও মুখের পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো—ব্রাশ করার ঠিক পরপরই জল দিয়ে জোরে কুলি করা মোটেও সঠিক অভ্যাস নয়। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারের পর সাথে সাথে প্রচুর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে টুথপেস্টের কার্যকরী ফ্লোরাইড ধুয়ে বেরিয়ে যায়, যা দাঁতকে গহ্বর বা ক্যাভিটি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না।
এর পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে একই টুথব্রাশ ব্যবহার করা সবচেয়ে বিপজ্জনক। টুথব্রাশের ব্রিসল বেঁকে গেলে বা প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর নতুন ব্রাশ ব্যবহার না করলে তাতে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে, যা এমনকি ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দামি প্রসাধনী বা কেমিক্যাল যুক্ত পণ্যের পেছনে না ছুটে, সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত নিয়মে প্রতিদিন দাঁতের যত্ন নেওয়াই সুস্থ হাসির আসল চাবিকাঠি।