সকালে দরজা ভাঙতেই হিমশীতল দেহ! বিধানসভার অন্দরে খোদ ক্যান্টিন কর্মীর মৃত্যুতে দানা বাঁধছে বিরাট রহস্য!

রাজ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র তথা বিধানসভার অন্দরে এক ক্যান্টিন কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে চরম চাঞ্চল্য ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বিধানসভার ক্যান্টিনের শৌচালয় থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৬ বছর বয়সি এক অস্থায়ী কর্মীর নিথর দেহ। মৃত ওই ব্যক্তির নাম উমেশচন্দ্র দাস। গত ১৫ বছর ধরে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে তিনি বিধানসভার ক্যান্টিনেই কর্মরত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যেই রাতে ক্যান্টিনের ভেতরেই অবস্থান করতেন। এমনকি গত রবিবার রাতেও তিনি বিধানসভার ভেতরেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভিভিআইপি (VVIP) নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা একটি সরকারি ভবনের অভ্যন্তরে এমন মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা প্রশাসনিক মহলে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার সকালে অন্য এক কর্মী কাজে এসে উমেশচন্দ্র দাসকে দেখতে না পেয়ে তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে কোনো সাড়া শব্দ না মেলায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পর দরজা না খোলায় তাঁরা পেছনের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন যে উমেশচন্দ্র শৌচালয়ের মেঝেতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এরপর অন্যান্য কর্মীরাই তড়িঘড়ি দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ দ্রুত তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম বা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই হাই-প্রোফাইল মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। বিধানসভার মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা ভেদ করে এমন ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক অন্তর্ঘাত লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় হোমিসাইড স্কোয়াড এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড টিমও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মৃতদেহের বাহ্যিক অংশে কোনো স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন বা জোরপূর্বক ধস্তাধস্তির প্রমাণ মেলেনি। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই উমেশচন্দ্র দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সোমবার বিধানসভার কাজের দিন হওয়ায় সকাল থেকেই বিধায়ক ও সরকারি আধিকারিকদের ভিড় জমতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার আগেই এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বিধানসভার অন্দরে এখন গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।