শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য! বাগেশ্বর বাবার কড়া সমালোচনা করে মোক্ষম প্রশ্ন কুণাল-নওশাদের

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও শারীরিক ভঙ্গি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। তাঁর এই আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসরে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলার পাশাপাশি, এ বিষয়ে বিজেপির রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। যদিও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠতেই নিজের বক্তব্যের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এলাকায় একটি রামকথা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানেই তিনি শ্রীরামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণের রূপ এবং শারীরিক ভঙ্গিমার মধ্যে তুলনা টানেন। তাঁর সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

ভিডিওটিতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি বা ছবিতে তাঁকে নাকি তিন জায়গায় বাঁকা—অর্থাৎ পা, কোমর ও ঘাড় বাঁকিয়ে বাঁশি বাজাতে দেখা যায়। এর সঙ্গে শ্রীরামের সোজা ও মার্জিতভাবে দাঁড়ানোর তুলনা টানেন তিনি। এমনকি বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

মথুরা-বৃন্দাবন থেকে রাজনৈতিক মহল উত্তাল: ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের এই মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মথুরা ও বৃন্দাবনের সাধু-সন্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সনাতন ধর্মের মূল স্তম্ভ ও শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এমন তুলনামূলক অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করেন তাঁরা।

এদিকে বাংলার রাজনীতিতেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী একযোগে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি, যারা নিজেদের হিন্দু ধর্মের স্বঘোষিত রক্ষাকর্তা বলে দাবি করে, সেই বিজেপি নেতারা এই বিষয়ে কেন সম্পূর্ণ মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। বিশেষ করে নওশাদ সিদ্দিকী বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং অনুপ্রবেশের রাজনীতি নিয়েও সরব হন।

চারদিক থেকে তীব্র সমালোচনা ও আইনি পদক্ষেপের চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান। তবে এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে ক্ষোভের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।