শেষ মুহূর্তে পাইলটের কণ্ঠে ত্রাসের সুর, ব্ল্যাকআউটের পরেই আটলান্টিক উপকূলে মিলল নিখোঁজ মেডিক্যাল বিমানের ধ্বংসাবশেষ!

বারমুডা থেকে বস্টন যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। ৬ জন সওয়ারিকে নিয়ে আকাশে ওড়ার পর হঠাৎই বিমানটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত কেপ কড ও ম্যাসাচুসেটসের নানটাকট উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।
আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স’ (Latitude Air Ambulance) নামের ওই বিমানটির রেজিস্ট্রেশন করা ছিল কানাডায়। বারমুডার এলএফ ওয়েড ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে দুই যাত্রী ও চার জন বিমানকর্মীসহ মোট ছয় জনকে নিয়ে রাত ১২টা বেজে ৪১৯ মিনিটে আকাশে ওড়ে বিমানটি। সারারাত আকাশপথে পাড়ি দিয়ে সকালে আমেরিকার বস্টনে অবতরণ করার কথা ছিল সেটির।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ছিল বিমানটি। কিন্তু আকস্মিকভাবে সেটি নেমে আসে ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায়। মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে এমন অভাবনীয় ও দ্রুত উচ্চতা হারানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোরবেলায় বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ‘LiveATC.net’ নামক প্ল্যাটফর্মের সূত্রে শেষ মুহূর্তে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথোপকথনের যে অডিও রেকর্ডিং সামনে এসেছে, তাতে জানা যায় বিমানটির ভেতরে এক চরম সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
অডিও রেকর্ডিংয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের গলার স্বরে বলতে শোনা যায়, পাইলট কিছু দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। পাইলটের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থাও (Emergency) ঘোষণা করা হয়। বিমানটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েছিল এবং বিমানের বৈদ্যুতিন সিস্টেমে বড়সড় গোলযোগ বা ফল্ট দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়ের মুখে পড়ে পাইলট দিশা হারিয়ে ফেলেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ফসকে যায়।
সংবাদ সংস্থা এপি (AP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানে বৈদ্যুতিক গোলযোগ দেখা দেওয়ার পরই পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। কানাডার পরিবহণ মন্ত্রী স্টিভেন ম্যাকিনন জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিমানে থাকা চার জন যাত্রী কানাডার নাগরিক এবং বাকি দু’জন বারমুডার বাসিন্দা। ম্যাসাচুসেটসের নানটাকট উপকূলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ভেসে ওঠার পর থেকেই তীব্র গতিতে উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। নিখোঁজ ৬ জনের খোঁজে জলে ডুবুরি নামানো হয়েছে এবং রাতভর চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।