শীতে চুল উঠছে বা রুক্ষ হয়ে গেছে? ঘরেই বানান জাদুকরী তেল, ফল পাবেন হাতেনাতে!

শীতের মরসুমে ঠান্ডা হাওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতার ঘাটতির কারণে ত্বক ও চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এই সময়ে স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল রুক্ষ ও উস্কোখুস্কো হয়ে পড়া এবং চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দেয়। এই জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পার্লারের কোনো দামী বা কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ট্রিটমেন্টের ধারেকাছেও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি বিশেষ হেয়ার অয়েল, যা আপনার চুলকে করবে রেশমের মতো নরম ও উজ্জ্বল।
এই জাদুকরী তেল তৈরির জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ১ কাপ খাঁটি নারকেল তেল, ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ২ টেবিল চামচ শুকনো আমলকি, ১ টেবিল চামচ মেথি, ১০ থেকে ১২টি টাটকা কারিপাতা এবং ১ চা চামচ কালোজিরে। নারকেল তেল চুলের গভীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা রক্ষা করে এবং প্রোটিন ক্ষয় রোধ করে। অন্যদিকে, ক্যাস্টর অয়েল বেশ ঘন হওয়ায় চুলের লকের আর্দ্রতা আটকে রাখতে দারুণ কার্যকরী। পাশাপাশি, আমলকি, মেথি, কারিপাতা এবং কালোজিরে যুগ যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে চুলের গোড়া শক্ত করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঘরে বসেই এই ভেষজ তেল তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে মেথি এবং কালোজিরে হালকা করে গুঁড়ো করে নিন, যাতে উপাদানগুলোর কার্যকারিতা তেলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যেতে পারে। এরপর একটি পাত্রে নারকেল তেল নিয়ে মৃদু আঁচে গরম করুন। ঈষদুষ্ণ তেলে গুঁড়ো করা মেথি ও কালোজিরে দিয়ে দিন। এরপর একে একে শুকনো আমলকি এবং কারিপাতা যোগ করুন। মিশ্রণটিকে কম আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন তেল যেন কোনোভাবেই পুড়ে না যায় বা ধোঁয়া না বের হয়। রান্না শেষ হলে গ্যাসের আঁচ বন্ধ করে তেলটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।
ঠান্ডা হওয়ার পর একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে তেলটি ভালোভাবে ছেঁকে নিন। সবশেষে এতে ক্যাস্টর অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। এবার এই তেলটি একটি পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকনো কাঁচের বোতলে সংরক্ষণ করুন। মাসের পর মাস এটি ব্যবহার করা সম্ভব।
চুলে এই তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়মও বেশ সহজ। ব্যবহারের আগে সামান্য তেল একটি আলাদা পাত্রে নিয়ে হালকা গরম করে নিন। সরাসরি বোতল গরম না করে গরম জলের পাত্রে তেলের বাটি বসিয়ে ঈষদুষ্ণ করে নেওয়া ভালো। চুলগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আঙুলের ডগা দিয়ে স্ক্যাল্পে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। কখনোই নখ ব্যবহার করবেন না বা খুব জোরে ঘষবেন না। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত তেল লাগিয়ে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি মাইল্ড বা ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দু’বার এই পদ্ধতি মেনে চললে চমৎকার ফলাফল পাবেন।
তবে তেল ব্যবহারের সময় কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। সবসময় অল্প পরিমাণে তেল তৈরি করুন এবং নিশ্চিত করুন যেন বোতলের ভিতরে কোনোভাবেই জলের ফোঁটা প্রবেশ না করে। তেলের গন্ধ বা রঙ অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হলে তা ব্যবহার করবেন না। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকে একটি ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদি কোনো ধরনের চুলকানি বা অস্বস্তি হয়, তবে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, এই তেল চুল নরম করতে ও ভাঙা রোধে জাদুর মতো কাজ করলেও এটি রাতারাতি দ্রুত চুল গজানোর কোনো গ্যারান্টি দেয় না। চুল পড়ার সমস্যা জিনগত বা খাদ্যাভ্যাসের ওপরও নির্ভর করে। যদি অতিরিক্ত চুল পড়ে, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (ডার্মাটোলজিস্ট) পরামর্শ নিন।