শিবসেনা-এনসিপির পথেই কি হাঁটছে তৃণমূল? মমতার দল নিয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন!

আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছে এবং বিজেপির অন্দরেও প্রার্থী নিয়ে জোরালো জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর হলো মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার ঠিক আগে নির্বাচন কমিশন কোন শিবিরকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসল নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমোদন দেবে, সেদিকেই এখন সারা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর আটকে রয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতির আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটাতে আজ, শনিবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সঙ্গেই আলাদাভাবে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। আদৌ কি কাউকেই প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, নাকি শিবসেনা বা এনসিপির মতো তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকও সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেওয়া হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা।

আজ শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয় শিবিরকেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেই নির্ধারিত সময়ে দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে কমিশনে উপস্থিত থাকবেন। দুই পক্ষের সমস্ত আইনি যুক্তি ও নথিপত্র শোনার পরই কমিশন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও প্রতীকের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি সম্ভাবনা জোরালোভাবে উঠে আসছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মমতা এবং ঋতব্রত—উভয় শিবিরকেই একটি করে সাময়িক নাম এবং অস্থায়ী প্রতীক বরাদ্দ করা হতে পারে। তৃতীয়ত, কমিশনের তরফে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কারা, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

অতীতে দেশের অন্যান্য হেভিওয়েট রাজনৈতিক দলেও এ ধরনের নজির দেখা গিয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রকৃত শিবসেনার অধিকার নিয়ে একনাথ শিন্ডে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন ‘আন্ধেরি ইস্ট’ উপনির্বাচনে কমিশন শিবসেনার নাম ও তীর-ধনুক প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দিয়েছিল। শিন্ডে শিবিরকে দুই তরবারি ও ঢাল এবং উদ্ধব শিবিরকে জ্বলন্ত মশাল প্রতীক দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন একনাথ শিন্ডেকেই আসল শিবসেনা ও পুরনো প্রতীক প্রদান করে। ঠিক একইভাবে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনসিপির দখল নিয়ে অজিত পাওয়ার কমিশনের দ্বারস্থ হন এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীকে ‘শিঙ্গা ফোঁকা’ প্রতীক দিয়েছিল কমিশন। এখন দেখার বিষয়, আজকের এই ম্যারাথন বৈঠকের পর তৃণমূলের ভাগ্যে ঠিক কী রায় দেয় নির্বাচন কমিশন।