শাখাপ্রসার ছাড়িয়ে এবার অন্য লক্ষ্যে সংঘ! বাংলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক জমি শক্ত করতে বড় ছক কাটছে আরএসএস

সংগঠনের বিস্তার মানেই কি কেবল খাতার পাতায় শাখার সংখ্যা বাড়ানো? এই গতানুগতিক ধারণার বাইরে বেরিয়ে এবার এক সম্পূর্ণ নতুন এবং সুদূরপ্রসারী রণকৌশলে হাঁটতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বাংলার মাটিতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং জনসংযোগের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করতে বর্তমানে বর্ধমানকে কেন্দ্র করে চলছে এক মেগা পর্যালোচনা। খাস বর্ধমানে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংঘের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবোলেও। যা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চা এখন তুঙ্গে।

সংঘ সূত্রে খবর, গত প্রায় এক বছর ধরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই জনসচেতনতামূলক উদ্যোগগুলি আদতে কতখানি ফলপ্রসূ হয়েছে, কোন কোন নতুন এলাকায় সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঠিক কোথায় কোথায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন—তার একটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই বৈঠকে।

নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, কেবল শাখার সংখ্যা বৃদ্ধিই একমাত্র মাপকাঠি নয়; বরং নতুন এলাকায় কতটা গভীরভাবে পৌঁছনো গেল, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মন জয় করা গেল এবং সেই বর্ধিত সংগঠনকে কতটা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হলো—এখন সেই সামগ্রিক হিসাবের ওপরই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কার্যকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলায় সঙ্ঘের পরিধি আরও কীভাবে বিস্তার লাভ করবে, তার চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। বর্ধমানের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।