শাক দিয়ে মাছ ঢাকা গেল না! ফর্ম-৬ বদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোন চরম মিথ্যাচারের পর্দাফাঁস করল সুপ্রিম কোর্ট?

প্রবাদ আছে, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না’। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) মামলার শুনানি চলাকালীন যেন ঠিক এই প্রবাদটিরই বাস্তব রূপ দেখল দেশবাসী। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণের ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) এ অনুমোদনহীন পরিবর্তন এবং সেই সংক্রান্ত কমিশনের একটি প্রেস নোট নিয়ে শীর্ষ আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তাতে কমিশনের দাবির ফানুস এক নিমেষে চুপসে গেছে।
কী দাবি করেছিল কমিশন? বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের একটি প্রেস নোটকে কেন্দ্র করে। কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, ওই বিজ্ঞপ্তির তিন নম্বর পয়েন্টে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছিল যে, ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) চলাকালীন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যে অতিরিক্ত স্বঘোষণাপত্র বা শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনক্রমেই করা হয়েছে। এমনকি বিজ্ঞপ্তির শেষে ফলাও করে তিন নির্বাচন কমিশনারের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সপাটে খারিজ কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির সময় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র উঠে আসে। প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, সংশোধিত ফর্ম ৬-এ কোনো রকম রদবদল বা নতুন শর্ত জোড়ার জন্য শীর্ষ আদালত বা সরকার কখনোই কোনো অনুমতি দেয়নি! আদালতের এই কড়া বার্তার পরই কমিশনের ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রেস নোট এবং তাদের দেওয়া সাফাইয়ের সত্যতা নিয়ে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের এই বিভ্রান্তিকর দাবি এবং আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্ত ও গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হলো।