শর্ত ভেঙেও জেলযাত্রা এড়ালেন শারজিল ইমাম! জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে আদালত কী বার্তা দিল?

দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত শারজিল ইমাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের স্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে রায় দিয়েছে দিল্লির করকরডুমা আদালত। বিচারালয়ের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত থাকা ও সাক্ষাৎকার পর্বে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললেও তাঁর জামিন বাতিল করা হয়নি। অতিরিক্ত দায়রা জজ সমীর বাজপাই জানান, যেহেতু জামিনের নির্দিষ্ট মেয়াদ অনুযায়ী শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে আদালতে বা জেলের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে, তাই আলাদা করে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন খারিজ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং নিজের চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত শারজিল ইমামকে সাত দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল আদালত। জামিন মঞ্জুরের সময় স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, এই সময়ের মধ্যে শারজিল কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো বক্তব্য, যোগাযোগ বা সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না।
তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (এসপিপি) মধুকার পান্ডে আদালতে জোরালো সওয়াল করেন যে, জামিনে মুক্ত থাকাকালীন শারজিল এই শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ আপলোড করা একাধিক ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাঁর ভাই যখন সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন, তখন শারজিল ইমাম স্বয়ং সেই কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন এবং লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসপিপির যুক্তি ছিল, শারজিলের অজান্তে বা অবর্তমানে এমন ভিডিও ধারণ করা অসম্ভব।
অন্যদিকে শারজিল ইমামের পক্ষে আইনজীবী তালিব মুস্তফা দাবি করেন, তিনি নিজে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেননি বা সাক্ষাৎকার দেননি। তাঁর দাবি ছিল, সংবাদ চ্যানেলটির আপলোড করা ভিডিওটি মূলত বিভিন্ন ক্লিপের একটি সংকলন এবং সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ইমামের ভাই, যিনি জামিনের শর্তের আওতাভুক্ত নন।
ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর আদালত আসামিপক্ষের এই দাবি খারিজ করে দেয়। বিচারক জানান, ক্লিপটিতে স্পষ্ট দেখা গেছে শারজিল এবং অন্যান্যরা একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন এবং ভিডিওটিতে এএনআই (ANI)-এর লোগো বা শনাক্তকরণ চিহ্ন থাকায় এটি সংবাদ সংস্থার দ্বারাই রেকর্ডকৃত বলে প্রমাণিত হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার শেষ দিনে আত্মসমর্পণ করতে হওয়ায় আদালত প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করে নতুন করে জামিন বাতিলের পথে হাঁটেননি।