‘শকুনের অভিশাপে গরু মরে না!’ মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি মৃত্যুর হুমকি দেওয়ায় ফুঁসে উঠল শাসক শিবির

রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অঙ্গ হলেও, শালীনতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনিক প্রধানকে নিয়ে যা মন্তব্য করলেন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর, তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। সংবাদমাধ্যমের সামনে এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুকামনা করেন ওই নেতা।

এদিন সাংবাদিকদের সামনে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী থেকে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। শুক্রবারে নমাজ পড়ে বলব, এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, ওপরওয়ালা যেন ওকে ওঁর টিকিট কাটিয়ে দেয়।” শুধু তাই নয়, নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ছত্তিশগড়ের এক কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী, অজিত পাওয়ার, এমনকি ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক পরিণতির উদাহরণ টেনে সরাসরি হত্যার প্রচ্ছন্ন হুমকি পর্যন্ত দেন তিনি।

হুমায়ুনের এই অশালীন ও নিম্নরুচির মন্তব্যের পরেই তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনার নিন্দা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ আজ তলানিতে ঠেকেছে। শুভেন্দু অধিকারী কারও দয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হননি, তাঁকে বাংলার জনতা নির্বাচিত করেছে। কেউ কাউকে পছন্দ না করতেই পারেন, কিন্তু প্রকাশ্যে এমন মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার মানসিকতা মেনে নেওয়া যায় না। প্রবাদ টেনে তিনি আরও বলেন, “শকুনের অভিশাপে গরু মরে না।” সবমিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য-রাজনীতির পারদ এখন চড়মে।