লোন বা ক্রেডিট কার্ড পেতে সমস্যা হচ্ছে? মাত্র ৬ মাসেই জলের মতো সোজা উপায়ে ঠিক করুন আপনার ক্রেডিট স্কোর!

বর্তমান সময়ে বাড়ি কেনা হোক কিংবা হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনের জন্য লোন বা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন—সবক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে CIBIL বা ক্রেডিট স্কোর। কিন্তু নানা কারণে অনেকেরই এই স্কোর হঠাৎ কমে যায়, যার ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে চরম বিপত্তিতে পড়তে হয়। তবে খারাপ ক্রেডিট স্কোর রাতারাতি ঠিক না হলেও, কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

৬ মাসে কীভাবে সুধরাবেন ক্রেডিট স্কোর?
অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেডিট স্কোর খারাপ হওয়ার সঠিক কারণ খুঁজে বের করে নিচের সহজ অভ্যাসগুলি মেনে চললে পরিস্থিতি দ্রুত আয়ত্তে আনা যায়:

সময়মতো ইএমআই ও বিল পরিশোধ: ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বিল মিটিয়ে দেওয়া। পেমেন্টের তারিখ মনে রাখতে ফোনে অ্যালার্ম বা অটো-ডেবিট সুবিধা চালু রাখতে পারেন। নিয়মিত সময়মতো পেমেন্ট করলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: আপনার কার্ডের যে লিমিট রয়েছে, তার সম্পূর্ণ অংশ প্রতি মাসে খরচ করে ফেলা ভালো লক্ষণ নয়। ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও কম রাখতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া কার্ডের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে।

বারেবারে লোনের আবেদন করবেন না: একটি ব্যাংক লোন বা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেই সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যাংকে আবেদন করা থেকে বিরত থাকুন। ঘন ঘন লোন এনকোয়ারি হলে তা ক্রেডিট স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্রেডিট রিপোর্টে নজর রাখুন ও ভুল সংশোধন করুন: অনেক সময় আপনার কোনো ভুল না থাকলেও রিপোর্টে ভুল তথ্য বা এমন কোনো লোন শো করতে পারে যা আপনি নেননি। তাই নিয়মিত নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট খতিয়ে দেখুন এবং কোনো ভুল ত্রুটি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় অভিযোগ জানিয়ে তা সংশোধন করান।

যদি সম্প্রতি দেরিতে পেমেন্ট বা অতিরিক্ত খরচের কারণে স্কোর কমে গিয়ে থাকে, তবে এই ৬টি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চললে ৬ মাসের মধ্যেই স্পষ্ট উন্নতি দেখতে পাবেন। তবে বহু পুরনো ও মিটিয়ে না দেওয়া ঋণ থাকলে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তাই সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিয়মনিষ্ঠা বজায় রাখলে যেকোনো খারাপ ক্রেডিট স্কোরকে খুব সহজেই ছ’মাসের মধ্যে রি-ভাইভ করা সম্ভব।