লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ! তিরুপতি-বেনারসের ধাঁচে তারাপীঠে চালু হলো বড় বদল, জানুন বিশদে

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যাকে সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। তিরুপতি এবং বেনারসের আদলে এবার তারাপীঠেও সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো সনাতন কাগজের টিকিট ব্যবস্থা। এর পরিবর্তে ভক্তদের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভিআইপি দর্শন ও অনলাইন টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া।
এতদিন ধরে মা তারার বিশেষ দর্শনের জন্য ভক্তদের ৫০০ টাকার কাগুজে কুপন সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ঘরে বসেই নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে এই টিকিট কেটে নিতে পারবেন ভক্তরা। মন্দিরে প্রবেশের সময় শুধু ওই ডিজিটাল টিকিট স্ক্যান করলেই গর্ভগৃহ বা বিশেষ সারিতে প্রবেশের সুযোগ মিলবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন ৫০০ জন ভক্তের জন্য এই অনলাইন ভিআইপি টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিষেবাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যার মতো পবিত্র তিথিতে যখন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে, তখন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা অতিরিক্ত ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন।
শুধু টিকিট বুকিংই নয়, ভবিষ্যতে ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট ‘টাইম স্লট’ বুকিংয়ের ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এর ফলে দর্শনার্থীরা তাঁদের সুবিধাজনক সময় বেছে নিয়ে মা তারার আরাধনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইন লেনদেনের কারণে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং টিকিট সংক্রান্ত যাবতীয় অনিয়মের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির হাত ধরে তারাপীঠ মন্দিরের এই আধুনিকীকরণ আগামী দিনে ভক্তদের তীর্থযাত্রার অভিজ্ঞতাকে আরও অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছন্দ করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।