রাহুল গান্ধী কি হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? বড় মন্তব্য করলেন সিপিএম নেতা এমএ বেবি!

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে রাহুল গান্ধীর কি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে? এই জল্পনার মধ্যেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে লোকসভার প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানানোর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বা সম্ভাব্য মুখ হিসেবে কাউকে আগে থেকেই তুলে ধরার ঘোরবিরোধী তাঁর দল।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সিপিএম নেতা এমএ বেবি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্রধানমন্ত্রী পদ দাবি করার স্বাভাবিক অধিকার থাকে। তবে কে সরকার পরিচালনা করবেন এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়া উচিত একমাত্র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি আগে যৌথভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করুক, তারপরেই জোটের শরিক দলগুলি আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে।
তাঁর মতে, দেশের বর্তমান বিরোধী শিবিরের দলগুলি যথেষ্ট রাজনৈতিকভাবে পরিণত। তাই সঠিক সময় এলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সর্বগ্রাহ্য এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে নিশ্চিতভাবে পৌঁছাতে পারবে। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে ১৯৯৬ সালের ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার গঠনের বৃতান্ত স্মরণ করিয়ে দেন। সে সময় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ মার্ক্সবাদী নেতা জ্যোতি বসুকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটি তথা কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দীর্ঘ আলোচনা চলেছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের তত্ত্বে দল শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সিপিএম যে নিজে থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের কোনো দাবি জানাবে না, তাও এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন এমএ বেবি। তাঁর সোজা কথা, বর্তমান সংসদে দলের যে শক্তি ও সংখ্যাবল রয়েছে, তাতে এককভাবে এমন দাবি করা সম্পূর্ণ হাস্যকর হবে। সেই বাস্তবসম্মত কারণেই বিরোধীরা জয়ী হলে লোকসভার প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে।
তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব বা পদের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ভোটের আগে এখনই কোনো ধরনের আগাম অনুমান বা জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে নারাজ সিপিএমের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর দৃঢ় অভিমত, নির্বাচনের বহু আগে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে অবান্তর জল্পনা শুরু হলে বিরোধী দলগুলির মূল লক্ষ্য অর্থাৎ জনস্বার্থের ইস্যু ও শাসনব্যবস্থার দুর্নীতি থেকে সাধারণ মানুষের নজর সরে যেতে পারে। আপাতত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে পরাস্ত করে যৌথভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দিকেই সমস্ত বিরোধী দলগুলির একযোগে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা রাখা জোসেফ বিজয়ের নামও ভবিষ্যতে দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও সেই বিতর্কে প্রবেশ করে জল ঘোলা করতে চাননি বাম নেতা। তাঁর সাফ কথা, এই ধরনের সম্ভাবনার আলোচনা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। সব মিলিয়ে এমএ বেবির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—বিরোধীরা আগে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের মতো ম্যাজিক ফিগার অর্জন করুক, আর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটের পরেই হোক।