রাহুলের মঞ্চে মোদীকে নিয়ে চরম ব্যঙ্গাত্মক অভিনয়! ‘কুরুচিকর ও অশালীন’ কটাক্ষে ফুঁসে উঠল বিজেপি

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিরোধী শিবিরের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ (Chhatron Ki Goonj) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তুঙ্গ রাজনৈতিক শোরগোল। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতেই মঞ্চে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মানির সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি ও সংলাপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কড়া ভাষায় তোপ দেগেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে সৌজন্যের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল ইন্দোরের মঞ্চে?
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে আয়োজিত এই ছাত্র ও যুব সম্মেলনে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর পাশেই কমেডিয়ান পুলকিত মানি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কথাবার্তা এবং চলাফেরা নকল করে মজার ছলে ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় প্রদর্শন করেন। পুরো সময় জুড়েই রাহুল গান্ধীকে হেসে বিষয়টিকে সমর্থন করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপি নেতৃত্ব সরব হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আচরণ কতটা সমীচীন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
“সস্তা ট্রোলদের মতো আচরণ”: ফুঁসে উঠলেন বিজেপি নেতারা
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন বলেন, “রাহুল গান্ধীর মঞ্চে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত কুরুচিকর, অশালীন এবং সস্তা ট্রোলের মতো। কোনো শালীন ও বিবেচক মানুষ একে বিনোদন বলতে পারেন না।” তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের অসংস্কৃতির কারণেই দেশের তরুণ সমাজ ও ছাত্র রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস দিনে দিনে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে।
| বিজেপি নেতা | প্রতিক্রিয়ার সারসংক্ষেপ |
| সি আর কেশবন (জাতীয় মুখপাত্র) | রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাহুলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ; সস্তা ট্রোলিংকে সমর্থন করা হচ্ছে। |
| প্রহ্লাদ জোশী (কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী) | ছাত্রদের মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে অপমানের চেষ্টা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব। |
| পুষ্কর সিং ধামি (উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী) | রাহুল গান্ধীর ভাষার মান দিন দিন নামছে; এটি ভারতীয় রাজনীতির মর্যাদায় এক বড় কলঙ্ক। |
ডিইউএসইউ নির্বাচন ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ‘এনএসইউআই’ (NSUI)-এর বিপর্যয় প্রমাণ করে যে দেশের ‘জেন জি’ ও তরুণ সমাজ এই ধরণের নেতিবাচক রাজনীতি পছন্দ করছে না। যদিও বিজেপির এই ধারাবাহিক আক্রমণের বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মিলেনি। তবে সব মিলিয়ে ইন্দোরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।