রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি! আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার, কবে মিলবে ভ্যাকসিন? বড় আপডেট দিল ICMR

রাজ্যে ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে ডেঙ্গি পরিস্থিতি। স্বাস্থ্যভবনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজারের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। লাফিয়ে বাড়ುತ್ತಿರುವ এই সংক্রমণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তবে এর মধ্যে ডেঙ্গির প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন কবে মিলবে, তা নিয়ে বড় আপডেট সামনে এনেছে আইসিএমআর (ICMR)।
স্বাস্থ্যভবনের ১১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২ জনে। পরিস্থিতি কতটা দ্রুত অবনতি হচ্ছে, তার প্রমাণ মেলে গত মাসের রিপোর্টের সঙ্গে তুলনা করলে। গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪১০ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার হিসেবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মুর্শিদাবাদের, যেখানে এককালীন আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে ১ হাজার ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কলকাতাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে এবং উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদা, হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলিতেও দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
ডেঙ্গির এই লাগামছাড়া সংক্রমণ রুখতে এবং এর প্রতিষেধক নিয়ে আইসিএমআর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৭ সালের আগে বাজারে ডেঙ্গির কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত প্রতিরোধ এবং সচেতনতাই একমাত্র ভরসা। বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অপূর্ব ঘোষের মতে, ডেঙ্গির ক্ষেত্রে প্রথম বারের চেয়ে দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে জ্বর নেমে যাওয়ার পরের সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়ে শিশুদের প্রস্রাবের পরিমাণ, পেটে ব্যথা কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো লক্ষণগুলির ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সচেতনতা না বাড়ালে পুজোর আগে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।