“রাজপুত্রদের দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করে না!” রাহুল-অখিলেশকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বিরোধী শিবিরের দুই মুখ— লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদবকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া একটি সর্বভারতীয় সাক্ষাৎকারে তিনি এই দুই নেত্রীকে ‘রাজপুত্র’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি, মাফিয়া পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

রাহুল ও অখিলেশকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে নিশানা

বিরোধীদের সমালোচনা করে বিজেপি সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই তথাকথিত ‘রাজপুত্ররা’ অতীতেও বহুবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের আর বিশ্বাস করে না। বিরোধী নেতারা কেবল নিজেদের পরিবার ও স্বার্থের কথা ভাবেন, জনকল্যাণ তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। এর বিপরীতে তাঁর দল সবসময় তৃণমূল স্তরের মানুষের সমর্থন ও আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে।

সমাজবাদী পার্টির আমলে ‘এক জেলা, এক মাফিয়া’ নীতি ছিল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সুশাসন ও উন্নয়নের উচ্চ প্রশংসা করেন নিতিন নবীন। ২০১৭ সালের আগের সমাজবাদী পার্টির জমানাকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে ইউপি-তে কার্যত ‘এক জেলা, এক মাফিয়া’ নীতি চালু ছিল। প্রতিটি জেলায় একজন করে মাফিয়া ও সর্দার রাজত্ব করত। কিন্তু বর্তমানের ডাবল-ইঞ্জিন সরকার সেই সমস্ত অপরাধী ও মাফিয়া নেতাদের সোজা জেলে পাঠিয়ে রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করেছে।

অখিলেশ যাদবকে সরাসরি আক্রমণ করে বিজেপি সভাপতি বলেন, “অখিলেশ যাদব হলেন ওই মাফিয়া নেতাদেরই শিষ্য। নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বাঁচাতে তিনি আজও সেই মাফিয়াদের রক্ষা করার চেষ্টা করে চলেছেন।”

মোদী সরকারের ঐতিহাসিক সাফল্য

সাক্ষাৎকারে মোদী সরকারের মেগা কৃতিত্বের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত বছরগুলিতে দেশের প্রায় ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমার বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে— যা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক সাফল্য। দেশবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই মোদী সরকার নিরলস কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আগের সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে দেশের জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় দিল্লির সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও, বর্তমান সরকার যোগ্য জবাব দিতে একবিন্দুও পিছপা হয় না।

আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখে নিতিন নবীনের এই ঝাঁঝালো সাক্ষাৎকার জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।