দীপাবলির গভীর রাতে নীরবে করুন এই ১টি কাজ! দূর হবে আর্থিক অনটন, ঘরে বাঁধা পড়বেন দেবী লক্ষ্মী

আর মাত্র অপেক্ষা কয়েক দিনের। দেশজুড়ে আনন্দ, আলো আর উৎসবের আবহ নিয়ে উপস্থিত হতে চলেছে মহাপর্ব দীপাবলি। সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী রবিবার, ৮ই নভেম্বর ২০২৬ তারিখে শুভ কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত হবে এই আলোর উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দীপাবলির বিশেষ এই পুণ্য তিথিতে ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মী এবং বিঘ্নহর্তা ভগবান শ্রীগণেশের বিশেষ আরাধনা করা হয়।

শাস্ত্র মতে, দিওয়ালির বিশেষ রাতে স্বয়ং মা লক্ষ্মী মর্ত্যধামে অবতীর্ণ হন এবং ভক্তদের ধন, ধান ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদে ভরিয়ে দেন। এই কারণেই এই রাতে ঘরবাড়ি আলো ও প্রদীপে ভরিয়ে তোলার পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করতে এবং গ্রহদোষ দূর করে আর্থিক সংকট কাটাতে কিছু প্রাচীন ও নীরব টোটকা বা আচার-অনুষ্ঠান পালনের বিধান রয়েছে। দীপাবলির রাতে সম্পূর্ণ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই কাজগুলি করলে জীবনে চিরতরে দূর হয় নেতিবাচক শক্তি এবং অমূল পরিবর্তন আসে ভাগ্যচক্রে।

১. কড়ি ও মুদ্রার গোপন প্রতিকার

দীপাবলির পুজো চলাকালীন মা লক্ষ্মীর চরণে ৫টি লাল কড়ি এবং কয়েকটি তামার ও রুপোর মুদ্রা নিবেদন করুন। পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর গভীর রাতে বা পরদিন সকালে এই কড়ি ও মুদ্রাগুলি একটি লাল সুতির কাপড়ে মুড়ে আপনার আলমারি বা টাকা রাখার স্থানে রেখে দিন। বিশ্বাস করা হয়, এতে বছরভর গৃহে অর্থাগমন অব্যাহত থাকে।

২. অখণ্ড প্রদীপ ও সর্ষের তেলের টোটকা

দীপাবলির রাতে বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের দু’পাশে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। শাস্ত্র মতে, পুজো শেষ হওয়ার পর বাড়ির একটি নির্জন কোণে একটি চারমুখী প্রদীপ জ্বালিয়ে তাতে অল্প কালো তিল ফেলে দিন। এটি গৃহ থেকে সমস্ত প্রকার নেতিবাচক শক্তি বা অলক্ষ্মীকে দূর করে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটায়।

৩. কাঁচা হলুদ ও লক্ষ্মী কৃপা

মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হলো আস্ত কাঁচা হলুদ। পুজোয় দেবীকে ৭টি কাঁচা হলুদ অর্পণ করুন। পুজো শেষে এই হলুদগুলি আপনার লকার বা ক্যাশ বাক্সে রেখে দিলে অহেতুক অপচয় বন্ধ হয় এবং সঞ্চয় বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, দিওয়ালির রাতে এই সহজ ও নীরব উপায়গুলি সঠিকভাবে পালন করতে পারলে দেবী লক্ষ্মীর অপার কৃপায় সংসারে সুখ, শান্তি ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য স্থায়ীভাবে বজায় থাকে।