‘রবীন্দ্রনাথের পর এবার স্বামীজি!’ কলেজ চত্বরে তাণ্ডব চালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, জেল হেফাজতে অভিযুক্তরা

উত্তর মালদার চাঁচল কলেজের পর এবার সামসি কলেজ। বিশ্বকবির ছবি পোড়ানোর ক্ষত এখনো টাটকা, এর মধ্যেই স্বামী বিবেকানন্দের পোস্টার ছেঁড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল খোদ শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) স্থানীয় তিন নেতার বিরুদ্ধে কলেজ চত্বরে স্বামীজির ছবি অবমাননা এবং এবিভিপির (ABVP) পতাকা পদপিষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে গেরুয়া শিবির। পুলিশ তাৎপর্যের সঙ্গে পদক্ষেপ করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং মূল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ অগস্ট। অভিযোগ, সামসি কলেজে লাগানো স্বামী বিবেকানন্দের ছবিযুক্ত এবিভিপির পোস্টারগুলি জোরপূর্বক ছিঁড়ে ফেলেন টিএমসিপি-র তিন স্থানীয় নেতা—দেবজিৎ সাহা, অরিজিৎ রবিদাস এবং তারিক রহমান। শুধু তাই নয়, সংগঠনের পতাকা মাটিতে ফেলে তা পদপিষ্ট করা হয় বলেও অভিযোগ। অত্যন্ত স্পর্ধার সঙ্গে এই অপকর্মের একটি ভিডিও ক্লিপ অভিযুক্তরা নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সাইবার দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসে এবিভিপি নেতৃত্ব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংগঠনের উত্তর মালদা জেলা সংযোজক প্রসূন চৌধুরীর নেতৃত্বে চাঁচল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং মঙ্গলবার দুই অভিযুক্ত দেবজিৎ সাহা ও অরিজিৎ রবিদাসকে গ্রেফতার করে। তবে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত তারিক রহমান ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর সন্ধানে জোরালো তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ এবং চারপাশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও দেখা যায় পলাতক তারিককে।

মঙ্গলবার ধৃত দুই অভিযুক্তকে চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন এবং ৭ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। চাঁচল মহকুমা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। পলাতক অভিযুক্তকে শিঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।

এবিভিপির উত্তর মালদা জেলা সংযোজক প্রসূন চৌধুরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তৃণমূলের আমলে এর আগেও চাঁচল কলেজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো হয়েছিল। এদের সেই সংস্কৃতি আজও বদলায়নি। স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের অনুপ্রেরণা, তাঁর অবমাননা বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। আমরা চাঁচল থানা সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন থানায় এফআইআর দায়ের করেছি। মূল অভিযুক্ত তারিককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ দু’জনকে ধরেছে, কিন্তু মূল অভিযুক্ত ধরা না পড়লে আমরা বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”