যাদবপুরে জাতীয় পতাকা বা বন্দে মাতরম বলতে বাধা! ক্যাম্পাস কাণ্ডের জেরে এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন শুভেন্দু?

গত বুধবার এসএফআই এবং এবিভিপি-র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। সেই অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যাদবপুরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক গোলমালের পর এবার সরাসরি পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আগামী শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাস টার্মিনাস মোড়ে ‘সহস্র কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি। আর সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো, এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা বা বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির থাকার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।
কয়েকদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা তুলতে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত ঠিকমতো পালন করতে দেওয়া হয় না। এছাড়া সিসিটিভি লাগাতে না দেওয়া এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।
যাদবপুরের সেই সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পরেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে শুভেন্দুকুমার অধিকারী বলেছিলেন, “যাদবপুরে বন্দে মাতরম বলতে দেওয়া হয় না। জাতীয় পতাকা তুলতে দেওয়া হয় না… এর সঙ্গে কোনো সমঝোতা করব না।” সেই প্রতিজ্ঞাকে সামনে রেখেই এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে অদূরে দাঁড়িয়ে জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্রবাদের বার্তা দিতে বিশাল জমায়েতের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। আগামী শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ যাদবপুর ৮বি মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে শুভেন্দুর এই যাদবপুর সফর এবং কর্মসূচি ঘিরে যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হবে, তা বলাই বাহুল্য।