যন্ত্রের দাপটে কোণঠাসা কাস্তে! ধান কাটতে কম্বাইন হারভেস্টারে ঝুঁকছেন কৃষকরা, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে কামারশাল

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো শেষ হতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, ঘাটাল ও চন্দ্রকোনার মতো এলাকায় মাঠ থেকে ধান তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই মরসুমে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কদর কমেছে ঐতিহ্যবাহী কাস্তের, আর তার বিপরীতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের চাহিদা বেড়েছে আকাশছোঁয়া। এর ফলস্বরূপ, কামারশালগুলোতে এখন কৃষকদের আনাগোনা নেই বললেই চলে।

কেন কাস্তে বর্জন? কৃষকরা জানিয়েছেন, কাস্তের মাধ্যমে ধান কাটলে শ্রমিকের খরচ এবং সময় দুটোই বেশি লাগে। শ্রমিকের অভাব, মাঠে ধান কেটে শুকানোর জন্য ফেলে রাখা এবং পরে আবার খামারে আনার খরচ— সব মিলিয়ে প্রতি বিঘেতে প্রায় ৭,০০০ টাকা খরচ হয়। এছাড়াও মাঠে ধান কাটা অবস্থায় থাকলে বৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সুবিধা: কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটলে খরচ অনেকটাই কমে যায়। কৃষকদের মতে, মেশিন ধান কাটা, ঝাড়া এবং খামারে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতি বিঘেতে মাত্র ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা খরচ হয়। এর ফলে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি খরচ সাশ্রয় হয় এবং সীমিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না।

কামারশালগুলির দুর্দশা: গড়বেতা, ঘাটাল, চন্দ্রকোনার কামারশালগুলির সঙ্গে যুক্ত কারিগররা জানাচ্ছেন, বছর কয়েক আগেও কাস্তের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু কম্বাইন হারভেস্টার বেরিয়ে যাওয়ায় কাস্তের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের আশঙ্কা, কৃষিক্ষেত্রে এই যন্ত্রনির্ভরতার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কাস্তে হয়তো বিলুপ্তির পথে হাঁটবে।