যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আগেই রাজধানীতে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান, বিমান থেকে আটক একাধিক আন্দোলনকারী

শনিবার সকালে দিল্লির মাটিতে পা রেখেই নজিরবিহীন পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি এবং ‘আইসা’ (AISA)। সেই প্রস্তাবিত বিক্ষোভ প্রতিহত করতে শনিবার সকালেই রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় দিল্লি পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে এয়ারপোর্টে অবতরণের পরপরই বিমানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সমাজকর্মী সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশবাহিনী।
বিমান থেকে নামার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের ভেতর থেকে এভাবে নেতাদের তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ দিপকে। পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা বিমান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তো আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন! সরাসরি ফ্লাইটে ঢুকে এভাবে আটক করছেন কেন? আমাদের গ্রেফতার করতে হলে করুন, ইউএপিএ বা এনএসএ দিন—আমরা কাউকে ভয় পাই না! দেশের গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনের সুরক্ষায় আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে।” যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।
এদিকে, বিক্ষোভের এই ঢেউ শুধু বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গুরুগ্রামের আবাসন থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং সিজেপি-র লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিংকেও গৃহবন্দি বা আটক করা হয়েছে বলে খবর। রাজধানীতে প্রতিবাদ আন্দোলন পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে অন্তত চারশোর বেশি প্রতিবাদকারীকে আটক করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে আন্দোলনকারীদের মিছিল বা জমায়েত রুখতে মোট ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীতে যেকোনো ধরনের বড়ো গোলযোগ এড়াতে বিশ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে।
এই চরম দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বিমানের ভিতর থেকে এভাবে নেতাদের তুলে নেওয়া এক স্বৈরাচারী মনোভাবের নগ্ন প্রকাশ। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আয়োজিত আন্দোলনকে নেতৃত্বহীন করে তুলতেই প্রশাসন এই পরিকল্পিত পদক্ষেপ করেছে। অবিলম্বে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে সিজেপি।