ফাঁসির লাইভ সম্প্রচার নিয়ে বড় ইউ-টার্ন ট্রাম্পের! আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার ঘটতে চলা এই ঘটনা নিয়ে কেন পিছু হঠছে হোয়াইট হাউস?

আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার কোনো মৃত্যুদণ্ড সরাসরি টেলিভিশনে বা ইন্টারনেটে সম্প্রচার করা হবে কি না—তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০০৯ সালের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন সেনা মেজর নিদাল হাসানের ফাঁসি কার্যকর করার দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাব দিলেও, বর্তমানে তা নিয়ে গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কী কারণে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক?
আমেরিকায় সাধারণত মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কার্যকর করা হয়। তবে বর্তমান প্রশাসনের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে, এই ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে এবং মানুষকে সচেতন করতে নিদাল হাসানের ফাঁসি সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। যদি এটি বাস্তবায়িত হতো, তবে সেটি হতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ডের লাইভ টেলিকাস্ট।
কিন্তু এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব সামনে আসার পরেই দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। হোয়াইট হাউসের ভেতরে এবং বাইরে থাকা বহু আইনপ্রণেতা ও গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন।
ট্রাম্পের অবস্থানে বড় পরিবর্তন
শুরুতে এই ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “অবশ্যই, আমি এটা সমর্থন করি।” তাঁর যুক্তি ছিল, এই ধরনের প্রকাশ্য শাস্তি অন্যদের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে এবং একই ধরনের অপরাধ করা থেকে অপরাধীদের বিরত রাখবে।
তবে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ এবং তীব্র বিরোধিতার মুখে এখন নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবেই তাঁর হাতে রয়েছে। প্রশাসনের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকে নিষেধ আসার পর ট্রাম্প নিজেই এখন বুঝতে পারছেন যে এই ফাঁসি সরাসরি সম্প্রচার করা ঠিক হবে কি না। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এই লাইভ সম্প্রচারের অনুমতি দেবেন না বলেই জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কে এই নিদাল হাসান?
২০০৯ সালের ৫ই নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে চিকিৎসাধীন ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সৈনিকদের ওপর হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালান মার্কিন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর নিদাল হাসান। ৯/১১ হামলার পর মার্কিন মাটিতে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ ও মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা। এই নৃশংস গুলিবর্ষণে একজন গর্ভবতী মহিলা সহ মোট ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৩২ জন। পরবর্তীতে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
আগামী ৩ ডিসেম্বর তাঁর সেই সাজা কার্যকরের দিন ধার্য হয়েছে। কিন্তু ফাঁসি সরাসরি সম্প্রচার করা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক দোদুল্যমানতা এই পুরো মামলাটিকে আবারও আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনামে নিয়ে এসেছে।