মেঘালয়ে রাতারাতি মুছে গেল ‘কিংমেকার’ পার্টি! ১১ জন বিধায়কের পদ্ম-শিবিরে যোগ, ইস্তফা দিয়ে বোমা ফাটালেন সভাপতি মেতবাহ্

উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে রাজনৈতিক আবহাওয়া হঠাৎই অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এতদিন ধরে ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় থাকা আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (UDP)-র অস্তিত্বই এখন কার্যত ঝুলন্ত অবস্থায়! মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দলে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ১২ জন বিধায়কের মধ্যে একযোগে ১১ জন ইস্তফা দিয়ে শাসক জোটের প্রধান শক্তি বিজেপি এবং এনপিপি-তে যোগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়।
এই চরম বিপর্যয়ের জেরে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ইউডিপি (UDP) সভাপতি তথা মেঘালয় বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার মেতবাহ্ লিংডো (Metbah Lyngdoh)।
ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল ‘কিংমেকার’ দল, বিজেপি-এনপিপিতে যোগের হিড়িক
খাসি-জয়ন্তিয়া পার্বত্য এলাকার একক বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ইউডিপি-র মোট ১২ জন বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পিকারের অনুমোদন নিয়ে দলটির ৮ জন বিধায়ক সোজাসুজি যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) এবং ৩ জন বিধায়ক গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দল ন্যাশনাল পিওপলস পার্টিতে (NPP)।
ফলস্বরূপ, গোটা বিধানসভায় দলে এখন একা রয়ে গিয়েছেন খোদ সভাপতি মেতবাহ্ লিংডো। এমন অভূতপূর্ব ভাঙনের পর মেতবাহ্ বলেন, “দলে যেভাবে ভাঙন ধরেছে এবং বিধায়ক হিসেবে আমি যেখানে একা হয়ে পড়েছি, সেই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় টিকে থাকা আমার পক্ষে নৈতিকভাবে সাজে না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই আমি ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ঠিক কী ঘটেছিল ২০২৩-এর সমীকরণে?
২০২৩ সালের মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে কনরাডের দল এনপিপি (NPP) ২৬টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসে। তবে সরকার গড়তে প্রয়োজন ছিল জোটের। সেই সময় ইউডিপি-র ১২ জন, বিজেপি-র ২ জন, এইচএসডিপি-র ২ জন এবং ২ জন নির্দল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সেখানে মেঘালয় ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (MDA) জোট সরকার গঠিত হয়। বছরখানেক আগেই ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মেতবাহ্। কিন্তু রাতারাতি সমীকরণ উল্টে যাওয়ায় ইউডিপি-র অস্তিত্বই প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
ইচ্ছাকৃত ইস্তফা না কি অন্তর্দ্বন্দ্বে বাধ্য হওয়া?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ইউডিপি-র ভেতরে নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং সাংগঠনিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে উঠেছিল। সভাপতি হিসেবে মেতবাহ্ লিংডোর ভূমিকা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল।
তবে মেতবাহ্ নিজে ইস্তফা দিয়েছেন না কি পরিস্থিতি তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে—তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। পদত্যাগের পর ইউডিপি সভাপতি জানিয়েছেন, দ্রুত দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে সমগ্র পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং ইউডিপি-র ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।