মায়ের পরকীয়া দেখে ফেলায় মর্মান্তিক পরিণতি! ১৩ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ খোদ জন্মদাত্রীর বিরুদ্ধে

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার যাদবপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মায়ের পরকীয়া সম্পর্ক হাতেনাতে ধরে ফেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে খোদ তার নিজের মায়ের বিরুদ্ধে। মৃত কিশোরের নাম শুভদীপ পাল। এই ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মা সাথী পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভদীপের বাবা দিলীপ পাল কাজের সূত্রে কলকাতায় থাকেন। বাড়িতে থাকত একমাত্র ছেলে শুভদীপ ও তার মা সাথী পাল। অভিযোগ, স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাথী একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাড়িতে প্রায়ই মদের আসর বসত এবং সেখানে বিভিন্ন এলাকার যুবকদের যাতায়াত ছিল। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে কিশোর শুভদীপের অশান্তি হতো। মা তাকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখত বলেও অভিযোগ।
গত রবিবার রাতে শুভদীপ পাশের বাড়িতে এক সহপাঠীর বাড়িতে গিয়েছিল। সেই সময় তাদের বাড়িতে এক অচেনা ব্যক্তি আসেন এবং সাথী তাঁর সঙ্গে মদ্যপান শুরু করেন। ঘণ্টাখানেক বাদে শুভদীপ বাড়িতে ফিরে এসে তার মাকে এক পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিজনক অবস্থায় দেখে ফেলে। এরপরই সে মায়ের সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করে এবং সমস্ত ঘটনা বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ সেই সময় মা-ছেলের মধ্যে তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানান।
প্রতিবেশীদের সন্দেহ ও পুলিশের পদক্ষেপ
কিছুক্ষণ পরে পরিস্থিতি হঠাৎ পুরোপুরি শান্ত হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা কৌতূহলী হয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ১৩ বছরের শুভদীপ ঘরের মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে আছে এবং তার মা সাথী মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। শুভদীপের গলায় স্পষ্ট আঁচড়ের দাগও দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তারা কিশোরকে উদ্ধার করে বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ যাদবপুর গ্রামে পৌঁছে অভিযুক্ত মাকে আটক করে দেগঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। দীর্ঘ রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মৃত কিশোরের বাবা দিলীপ পাল বলেন, “আমি কলকাতায় কাজ করি। বাড়িতে ছেলে আর তার স্ত্রী থাকত। স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমি আগেও নানা পরকীয়া সম্পর্কের কথা শুনেছিলাম। কিন্তু মদ খেয়ে নিজের ছেলেকে যে সে মেরে ফেলবে, তা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আমার স্ত্রীর চরম শাস্তি চাই।”
বারাসত জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত কিশোরের বাবা লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ধৃত মহিলা এখনও পর্যন্ত সরাসরি খুনের কথা স্বীকার করেননি। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।