মানুষের মনেই আসল মন্দির! দক্ষিণ কলকাতার মৈনাক ক্লাবের ‘লৌকিক’ থিমে চমক কালীপুজোয়

দক্ষিণ কলকাতার শ্রীকলোনি মৈনাক ক্লাব ২০২৬ সালের কালীপুজোয় এক সম্পূর্ণ অভিনব ও মন ছুঁয়ে যাওয়া থিম নিয়ে হাজির হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, আবহমানকালের লোকগাথা এবং মানুষের মনে বিভিন্ন নামে পুজো পাওয়া মা কালীর রূপগুলিকে মণ্ডপজুড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। এ বছরের তাদের এই সুনির্দিষ্ট থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লৌকিক’। শিল্পী সোমনাথ তামলীর সৃজনশীল ছোঁয়া এবং শিল্পী অভিজিৎ ঘটকের সুনিপুণ প্রতিমা নির্মাণ এই পুজোকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই মাটির সোঁদা গন্ধ, গ্রাম বাংলার নিত্যদিনের আচার-আচরণ আর প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের জীবন্ত ছবি দর্শকদের আপ্লুত করে তুলবে।

উদ্যোক্তাদের মতে, “মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার পরে করে দেব মহিমা নির্ভর।” শাস্ত্রের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস এবং জনমানসে প্রচলিত রীতিনীতিই হল এই পুজোর মূল প্রতিপাদ্য। ওলাই কালী, চামুণ্ডা কালী, রক্ষা কালী, শ্মশান কালী কিংবা ডাকাত কালীর মতো বিভিন্ন লৌকিক দেবীর রূপভেদ এবং তাঁদের পুজোর আলাদা আলাদা আঞ্চলিক পদ্ধতি সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গোটা মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় বাঁশের সুনিপুণ কাজ, শাড়ি, কাঠ, প্লাই এবং মাটির কলসির নিখুঁত ব্যবহার করা হয়েছে। দীপময় দাসের মনকাড়া আবহ এবং সুমন মাইতির চমৎকার আলোকসজ্জা পুরো পরিবেশকে এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক রূপ দিয়েছে।

শিল্পী সোমনাথ তামলী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, প্রান্তিক মানুষের খাদ্যাভাস, ভাষা, লোকাচার এবং জীবনযাত্রার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে তাঁদের আরাধ্য লৌকিক দেবদেবী। মানুষের অগাধ বিশ্বাস থাকলে বিরাট কোনো শাস্ত্রীয় জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না; গাছের নিচের একটি সাধারণ পাথরখণ্ডও ভক্তির জোরে পরম দেবতার রূপ নিতে পারে। প্রবাহমান লোকসংস্কৃতির এই চর্চাকেই সেলুলয়েডের ফ্রেমে বা মণ্ডপের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সবমিলিয়ে, ব্যস্ত শহরের বুকে গ্রাম বাংলার আসল সংস্কৃতিকে খুঁজে পাওয়ার এই প্রয়াস দর্শনার্থীদের ভিড় টানছে এবং দৈনিক সংবাদের শিরোনামে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।