মাদকের রুটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! বাজার থেকে উধাও জনপ্রিয় কাফ সিরাপ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘মেগা মাস্টারস্ট্রোক’

যুবসমাজকে মাদকের মারণ থাবা থেকে বাঁচাতে এবং রাজ্যজুড়ে অপরাধের মূল উৎপাটন করতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নেশামুক্ত ভারত’ মিশনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকেও পুরোপুরি মাদকহীন করার ক্ষেত্রে একবিন্দু আপস না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সাথে, রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে কোডিন-যুক্ত ‘এসকাফ’ (Escuf) কাশির সিরাপ সরবরাহকারী সংস্থাও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

বালুরঘাটে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক মেগা মাদকবিরোধী অভিযানের পর তৈরি হওয়া প্রবল চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আর সরাসরি কোনো ডিলারের কাছে ‘এসকাফ’ কাফ সিরাপ বিক্রি করা হবে না। শুধু তাই নয়, কলকাতার বিভিন্ন ডিপো ও গুদামে ইতিমধ্যেই মজুত থাকা সমস্ত স্টকও বাজার থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের অফিসিয়াল বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মাদক ও ক্ষতিকর উপাদানের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিককালে বারুইপুরসহ রাজ্যের একাধিক অপরাধ ও নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে অপরাধীরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিবার ও সামাজিক পরিবেশের এই ক্ষতি রুখতে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই গত পাঁচ মাস ধরে মাদকবিরোধী অভিযানকে নবান্নের ‘টপ প্রায়োরিটি’ করা হয়েছে।

এই বিশাল নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, এসটিএফ (STF), নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সি একযোগে কাজ করছে। এর আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানের সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বালুরঘাটে প্রথম দফায় ২ লক্ষ এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৩ লক্ষ ১০ হাজার বেআইনি কাফ সিরাপের বোতল মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্ত পেরিয়ে আসা আসামের এক আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে বিপুল পরিমাণ ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মাদক সংক্রান্ত তদন্ত ও মামলা পরিচালনায় আগে এসটিএফ-এর ক্ষেত্রে যেসব আইনি বাধা ছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সীমানা ও বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যাতে আর এক ফোটাও অবৈধ মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।