মহিলার দিকে খারাপভাবে তাকালেই কি যৌন হেনস্থা? কর্নাটক হাইকোর্টের নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণে তোলপাড়

কোনো মহিলার দিকে কেবল আপত্তিকরভাবে তাকালেই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার (Sexual Harassment) অভিযোগ আনা বা অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব নয়— একটি ফৌজদারি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল কর্নাটক হাইকোর্ট (Karnataka High Court)। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, শুধুমাত্র কুদৃষ্টি বা অসৌজন্যমূলক চাহনির ভিত্তিতে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৭৫(১)(ii) ধারায় যৌন হেনস্থার মামলা চালানো আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যৌন হেনস্থা ও অপরাধমূলক ভয় প্রদর্শনের মামলা এক রায়ে খারিজ করতে গিয়ে বিচারপতি সূরজ গোবিন্দরাজের সিঙ্গল বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ সামনে এনেছেন।

মামলার নেপথ্য কাহিনি

আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘হাফিস কাসিম বনাম কর্নাটক সরকার’ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলা খারিজের আর্জি জানিয়ে কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

অভিযোগকারী মহিলার দাবি ছিল, একটি পারিবারিক বা ব্যবসায়িক আর্থিক লেনদেনের বিবাদ মেটাতে তিনি অভিযুক্ত কাসিমের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় কাসিম তাঁর কাছে যৌন সুবিধা দাবি করেন এবং তার বিনিময়ে টাকা ও অন্যান্য সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি টাকা ফেরত না দিলে তাঁকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার ও ভয় দেখানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছিল:

  • ধারা ৭৫(১)(ii): প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌন সুবিধা দাবি করা।

  • ধারা ৭৫(১)(iv): যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে মহিলাকে অপমান করা।

  • ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন।

  • ধারা ৩৫২: শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান বা গালাগাল করা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত রায়

মামলার শুনানি চলাকালীন উভয় পক্ষের যুক্তি খতিয়ে দেখার পর বিচারপতি সূরজ গোবিন্দরাজ জানান, প্রাথমিক অভিযোগে উল্লেখিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের নির্দিষ্ট উপদান স্পষ্ট নয়। কেবল অসৌজন্যমূলক দৃষ্টি বা আপত্তিকরভাবে তাকানোর মৌখিক অভিযোগ তুলে যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা যায় না।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগগুলোর স্বপক্ষেও কোনো ठोस ও গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পুলিশ পেশ করতে পারেনি। এর পরেই বেঞ্চ অভিযুক্ত হাফিস কাসিমের বিরুদ্ধে চলা নিম্ন আদালতের ফৌজদারি মামলার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া খারিজ করার নির্দেশ দেয়। আইনি বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নতুন ন্যায় সংহিতার অধীনে যৌন হেনস্থার মামলা রুজুর ক্ষেত্রে কর্নাটক হাইকোর্টের এই রায় এক বড় নজির তৈরি করল।