আকাশে ভারত হারিয়ে দেবে শত্রুদের! ভবিষ্যতের স্টিলথ ফাইটার ও তেজসের জন্য বিরাট চাল চালল ভারতীয় বিমানবাহিনী

ভারতীয় আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব আরও নিশ্ছিদ্র ও শক্তিশালী করতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF)। ভবিষ্যতে আকাশের দখল নেওয়া তেজস এমকে-২ (Tejas Mk-2) কিংবা ভারতের স্বপ্নের পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান এএমসিএ (AMCA)-এর মতো அதிউন্নত ফাইটার জেট উড্ডয়ন ও যুদ্ধকৌশল পরিচালনার জন্য বৈমানিকদের তৈরি করতে নতুন ‘স্টেজ-৩’ অ্যাডভান্সড জেট ট্রেইনার (Advanced Jet Trainer) বিমান কেনার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘আরএফআই’ (Request for Information) বা তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ‘হক ১৩২’ (Hawk 132) বিমান বহরের পাশাপাশি এই নতুন যুদ্ধাস্ত্র প্রশিক্ষক বিমানগুলো যুক্ত হলে বিমানবাহিনীর বৈমানিকদের দক্ষতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক দরপত্র ও সরবরাহের পরিকল্পনা

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মেগা প্রজেক্টের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে তাদের প্রাথমিক দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আরএফপি (Request for Proposal) বা চূড়ান্ত প্রস্তাবের অনুরোধ জারি করা হবে।

যে সংস্থাই এই চুক্তি হাতে পাবে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ৬০ মাসের (৫ বছর) মধ্যে বিমানগুলির ডেলিভারি বা সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে।

ময়দানে ভারতের নিজস্ব ‘এইচএলএফটি-৪২’ বনাম বিশ্বের মেগা চার শক্তি

পাইলটদের উন্নত প্রশিক্ষণের এই মহা প্রতিযোগিতায় বিদেশি পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সরাসরি টক্কর দিতে নামছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)।

  • ভারতের চাল (HAL HLFT-42): এইচএএল তাদের নতুন ১৬.৫ টন ওজনের ‘এইচএলএফটি-৪২’ (HLFT-42) অ্যাডভান্সড জেট ট্রেইনার বিমান নিয়ে শক্তিশালী দাবিদার হতে চলেছে। তেজস যুদ্ধবিমানের আধুনিক অ্যারোডাইনামিক ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই বিমানের একটি স্কেল মডেল ‘অ্যারো ইন্ডিয়া ২০২৭’ (Aero India 2027) প্রদর্শনীতে উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, বেশ কিছু হেভিওয়েট বিশ্বখ্যাত বিদেশী প্রতিরক্ষা সংস্থাও এই মেগা অর্ডারের রেসে শামিল হচ্ছে:১. ইতালি: ইতালি, সিঙ্গাপুর, ইজরায়েল, পোল্যান্ড ও গ্রিসের মতো দেশের বিমানবাহিনীতে সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত এম-৩৪৬ (M-346) বিমান নিয়ে নামছে ইতালীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা লিওনার্দো। ২. দক্ষিণ কোরিয়া: কোরিয়া অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (KAI) প্রস্তাব করতে পারে তাদের বিশ্বখ্যাত টি-৫০ (T-50) বিমান। ৩. যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং দৌড়ে রয়েছে তাদের আধুনিক টি-৭এ (T-7A) মডেলটি নিয়ে। ৪. রাশিয়া: রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসছে তাদের শক্তিশালী ইয়াক-১৩০ (Yak-130) প্রশিক্ষণ বিমান।

কেন তৈরি হলো এই নতুন বিমান সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা?

বর্তমান আধুনিক আকাশযুদ্ধে ফাইটার জেটের ধরন ও যুদ্ধকৌশলে আমূল পরিবর্তন এসেছে। ভারত বর্তমানে যে সমস্ত পরবর্তী প্রজন্মের ককপিট তৈরি করছে— যেমন তেজস এমকে-২ কিংবা স্টিলথ ফাইটার এএমসিএ— সেগুলির দুই আসনবিশিষ্ট কোনো প্রশিক্ষণ রূপ রূপায়ণ বা ডেডিকেটেড টুইন-সিটার ট্রেইনার সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে না।

এর ফলে পাইলটদের সরাসরি ফ্রন্টলাইন বা প্রথম সারির ফাইটার জেটের ককপিটে বসানোর আগে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্টিলথ ককপিট-সিমুলেটেড ‘স্টেজ-৩’ প্রশিক্ষণ বিমানে প্রস্তুত করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই নতুন এয়ারক্রাফটগুলোর আগমন ভারতের বৈমানিকদের প্রযুক্তিগত জটিলতা, হাই-স্পিড ম্যানুভারিং ও আধুনিক মিসাইল সিস্টেম ব্যবহারের নিখুঁত পাঠ দেবে, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশযুদ্ধ করার ক্ষমতাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।