মহাকাশে ভারতের মুকুটে নতুন মণি! ৩৬ হাজার কিমি উচ্চতায় পৌঁছে ইতিহাস গড়ার পথে ইএসও-০৫

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ফের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল ভারত। গত শুক্রবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের পিঠে ভর করে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল দেশের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ (EOS-05)। এবার সেই উপগ্রহটিকে নিয়ে এল বড় সুখবর। উৎক্ষেপণের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই স্যাটেলাইটটির তৃতীয় তথা চূড়ান্ত কক্ষপথ বদল বা ‘অরবিট-raising’ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO।

ইসরোর তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার রাত ৮টা ৫ই মিনিটে সফলভাবে সম্পন্ন হয় এই অরবিট-রেজিং প্রক্রিয়া। এই ধাপে স্যাটেলাইটের লিকুইড অপোগী মোটর (LAM) ইঞ্জিন টানা ১ হাজার ২৪৭ সেকেন্ড ধরে চালনা করা হয়। বর্তমানে উপগ্রহটির ‘স্বাস্থ্য’ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র। এই সফল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পেসক্রাফ্টটিকে ধীরে ধীরে তার নির্দিষ্ট অপারেশনাল কক্ষপথের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত।

কেন এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে কাজ করা এই প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইটটি দেশের নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই কক্ষপথে স্যাটেলাইটের গতি এবং পৃথিবীর ঘূর্ণন বেগ সমান থাকায় পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হবে এটি নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের ওপর স্থির রয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা বিপর্যয় মোকাবিলায় উচ্চমানের রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করা আরও সহজ হবে।

এছাড়াও, GISAT-1A নামে পরিচিত এই স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা বা মিশন লাইফ আগে সাত বছর ধরা হলেও তা বাড়িয়ে ৯ বছরেরও বেশি করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই মহাকাশ অভিযান যে ভারতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।