“মমতার পার্টি অফিসের জায়গা তো আমিই দিয়েছিলাম!” দল ছাড়ার বিস্ফোরক নেপথ্য কাহিনী ফাঁস করলেন প্রবীণ নেতা!

কলকাতার তিলজলা ও তপসিয়া অঞ্চলে জলাভূমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল, বহুতল তৈরি এবং পার্কিং থেকে দেদার তোলাবাজির বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। আর এই সম্পূর্ণ বেআইনি কর্মকাণ্ডে মদত দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ উঠেছে কসবার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের গভীরতা বিচার করে ইতিমধ্যেই তিলজলা ও তপসিয়ার অন্তত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিরুনি তল্লাশি ও জোরদার তদন্ত শুরু করেছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-দমন তদন্ত কমিশন।

সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে বিধায়ক জাভেদ খান ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ১০০% ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বিল্ডিং তৈরি করি না, প্রোমোটিং বা ডেভলপমেন্টের ব্যবসাও করি না। দীর্ঘ ৩৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন জঘন্য অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে প্রথমবার এল। আমি কোনো নতুন সম্পত্তি কিনিনি, আমার যা আছে তা সবই পৈতৃক সম্পত্তি। তাই যে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে আমি রাজি, তবে আমাকেও কথা বলার বা নিজের পক্ষ রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। তদন্তকারী সংস্থা আমাকে ডাকছে না কেন? মনে রাখবেন, রবার ততটাই টানা উচিত, যতটা তা সহ্য করতে পারে।’’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া ও দল ছাড়ার বিষয়েও একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। জাভেদ খানের কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পাশে নেই। দলে চরম একনায়কতন্ত্র ও ডিক্টেটরশিপ চলছিল। ওঁর পার্টি অফিসের জমিও তো আমিই দিয়েছিলাম, অথচ আমাকে ট্রাস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো কেন? একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদর্শ মানতাম, উনি একজন ফাইটার ছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। দলকে তিনি এবং তাঁর পরিবার চরম দুর্নীতিতে ডুবিয়েছেন। আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, আমি সমস্ত প্রামাণ্য নথি দেব। আমার ভয় হচ্ছে, এসব কি আমার পৈতৃক সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার কোনো সুসংগঠিত চক্রান্ত?’’