মণিপুরে ফের রক্তাক্ত সংঘাত! পৃথক দুই হামলায় ৪ জনের মৃত্যুর পরই সোজা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভ

ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। নতুন করে ছড়িয়ে পড়া হিংসা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত রাত ও আজ সকালের দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা, যা ঘিরে ইম্ফলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ইম্ফল পূর্ব জেলায়। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিংয়ের দাবি, ইম্ফল পূর্ব ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলাকারীরা।
এই নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। নিহতদের পরিচয়ও প্রকাশ্যে এসেছে— ৩৫ বছরের অরুবাম রনিল, ৪৪ বছরের লাইরেনলাকপাম ইনওবি এবং ৩২ বছরের ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল। আহতদের উদ্ধার করে ইম্ফলের রাজ মেডি সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, মণিপুরের মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় সঙ্গীতানুষ্ঠান চলাকালীন পাথর ছোড়া ও ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের জেরে গুলির আঘাতে ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠিচার্জ
পরপর এই চার মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিহতদের দেহ নিয়ে ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান। উত্তেজনার বশে বিক্ষোভকারীদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে চত্বরে ঢুকে পড়েন এবং সেখানে মৃতদেহগুলি রেখে বিক্ষোভ দেখান।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং লাঠিচার্জ করতে হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেহগুলি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হিংসার এই ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে আসেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঝে মাঝে এই ধরনের উত্তেজনার খবর সামনে আসে। নতুন করে এই রক্তপাতের ঘটনায় ইম্ফল শহর ও আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। ফের যাতে বড় ধরনের সংঘর্ষ না ঘটে, তার জন্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করেছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী।