ভোটের মুখে ধুন্ধুমার! শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের, নন্দীগ্রাম-রেজিনগর নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র—রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ। ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ ততই তীব্র হচ্ছে। এই আবহেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উপনির্বাচনের মুখে বিরুদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শুভেন্দুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কল্যাণ
এক সাংবাদিক সম্মেলনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর নাম করে তিনি বলেন, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের মন ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।
নন্দীগ্রামের প্রার্থী বদল ঘিরে তোপ
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থী মনোনয়ন ও রণকৌশল নিয়েও সোচ্চার হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী নির্বাচন এবং পরবর্তীতে প্রার্থী সরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। এই ধরণের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে শাসক দল।
রেজিনগরেও উত্তাপ অব্যাহত
নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। সেখানেও প্রচারের ময়দানে একে অপরকে বিঁধতে ছাড়ছে না কোনো দলই। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ৯ অক্টোবরের ভোটগণনা পর্যন্ত দুই কেন্দ্রেই লড়াই আরও জোরদার হতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপনির্বাচনের মাত্র কিছুদিন আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আগ্রাসী মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে নতুন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক কৌশল। তবে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে উদ্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।