ভোটার তালিকা থেকে গায়েব ২৬ হিন্দু নাম! বিএলও-র কাণ্ডে শোরগোল বরেলিতে, ডিএম-এর কড়া পদক্ষেপে বরখাস্ত শিক্ষক

ভোটার তালিকায় কারচুপি ও নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত উত্তর প্রদেশের রাজনীতি। তবে এবার কোনো অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নয়, বরেলি জেলার শেরগড় ব্লকের মোহাম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ২৬ জন হিন্দু ভোটারের নাম তালিকা থেকে একযোগে বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসার (BLO) নাফিস মোহাম্মদ খানকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিএলও নাফিস মোহাম্মদ খান পেশায় একজন সহকারী শিক্ষক। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং প্রাক্তন গ্রাম প্রধানের সঙ্গে গোপন যোগসাজশের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৬ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দিয়েছেন।

তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য:

বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন এবং প্রশাসনের দুয়ারে দরবার করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে জেলাশাসক (DM) অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনার অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি সরজমিনে তদন্ত চালিয়ে ভোটার তালিকায় মারাত্মক অনিয়ম ও অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, বরং ইচ্ছাকৃত কারচুপির প্রমাণ খুঁজে পায়।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি:

তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক তথা বিএলও নাফিস মোহাম্মদ খানের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বরেলির জেলাশাসক জানান, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত কারচুপির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha