কলকাতা পুরভোটে বড়সড় আইনি ব্রেক! ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আটকে গেল নির্ঘণ্ট, হাইকোর্টের ধামাকাদার নির্দেশ

কলকাতা পুরনিগম (KMC) নির্বাচন ঘিরে তৈরি হলো বড়সড় আইনি জটিলতা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আগামী ৬ নভেম্বর অর্থাৎ পরশু দিন পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি বা নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাবে না।
বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নির্দেশনা জারি করেছে। সিপিআইএমের (CPI-M) প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাসের দায়ের করা রিট আবেদনের টানা বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছে এবং জানিয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বর আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে। ফলে সেই রায় না আসা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে পুরোপুরি স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে।
কেন শুরু বিতর্ক? ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আদালতের দরজা:
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য এই অন্তর্বর্তী আবেদনে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি এবং রাজ্যকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সিপিআইএম নেতা দীপু দাস।
আদালতের কক্ষে ক্ষুরধার যুক্তি-তর্ক:
এদিনের শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অত্যন্ত জোরালো যুক্তি পেশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন:
গত ৫ আগস্ট হঠাৎ ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়ে মাত্র দু’দিনের মাথায় (৭ আগস্ট) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪টি থেকে বাড়িয়ে ২০৯টি করার কথা জানানো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকাও প্রকাশ করে দেওয়া হয়।
পুরসভায় নির্বাচিত কোনো বোর্ড বা জনপ্রতিনিধি ছিল না; রাজ্য সরকার প্রশাসক বসিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই তড়িঘড়ি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “কলকাতা পুরনিগমের একজন সাধারণ প্রশাসনিক কর্মচারী বা আমলা কি এভাবে একাই একটি শহরের সীমানা বা ওয়ার্ড সংখ্যা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?”
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, ভোটের আগে এই ধরনের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই। ভোট প্রক্রিয়ার পরে ইলেকশন পিটিশন হিসেবেই এর বিচার হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
দুই পক্ষের জোরদার সওয়াল-জবাব শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পুরো আইনি দিক পর্যালোচনার পর ৬ নভেম্বর রায় দেওয়া হবে। ফলে রাজ্য সরকার বা নির্বাচন কমিশন চাইলেও আগামী পরশুর আগে কলকাতা পুরভোটের নির্ঘণ্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারছে না।