ভুয়া আধার কার্ডে উইপোকার মতো সরকারি টাকা লুট! দুর্নীতি রুখতে মহা পদক্ষেপ কেন্দ্রের!

দেশের কল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও বিরাট পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে সরকারি প্রকল্পের কল্যাণমূলক অর্থ (Welfare Payment) বিতরণের ক্ষেত্রে আধার কার্ড আর মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে না। আধার কার্ডের পরিবর্তে এবার থেকে ভোটার আইডি অর্থাৎ এপিক নম্বর (EPIC Number) এবং কঠোর বায়োমেট্রিক প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আধার কার্ড খুব সহজেই সংগ্রহ করা সম্ভব। অভিযোগ রয়েছে, যে কেউ মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে জাল বা সহজে প্রাপ্ত আধার তৈরি করে নিতে পারে। এই সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র নানা ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বহু অযোগ্য ব্যক্তি ভুয়া আধার ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে সরকারি সুবিধা ও অনুদান হাতিয়ে নিচ্ছে। এই দুর্নীতির জাল ছিন্ন করতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নতুন ও কঠোর ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে সুবিধাভোগীদের ভোটার আইডির পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে বায়োমেট্রিক যাচাই করতে হবে। এই দুটি উপায়ের সঠিক সমন্বয়েই ব্যক্তির আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং সেই অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রকের আওতাধীন কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে চলেছে। মন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো সুরে বলেছেন যে, এর ফলে শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীরাই সরকারি সাহায্য পাবেন এবং সমস্ত ভুয়া এন্ট্রি চিরতরে বাদ পড়বে। এর জেরে সামগ্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি একেবারে কমে আসবে। গ্যাটকসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় মন্ত্রী এই নীতিগত অবস্থান পুনরায় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বহু প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সরাসরি আধারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কিন্তু আধারের সহজলভ্যতা এবং কিছু ত্রুটির কারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছিল। অপরদিকে, ভোটার আইডি কার্ড নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে ইস্যু করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া যুক্ত হলে সুবিধাভোগীদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা আরও বেশি সহজ ও নিখুঁত হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

এই সিদ্ধান্তটিকে দুর্নীতি রোধের ক্ষেত্রে একটি বড় ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি রাজকোষের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়ে সরাসরি সঠিক ও দরিদ্র মানুষের পকেটে পৌঁছায়, সেটাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। তবে এই ঘোষণার পর বিভিন্ন মহল থেকে কিছু প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে সাধারণ মানুষ এই কল্যাণমূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যদিও মন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই নীতির একমাত্র উদ্দেশ্য হল জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ করে যোগ্যদের অধিকার নিশ্চিত করা।

গ্রামীণ অঞ্চলে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বহুমুখী উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমূলক কাজ পরিচালিত হয়। সেখানে সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন ও অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত জরুরি। নতুন নিয়মে বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভুয়া উপস্থিতি বা জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রকৃত দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষরা আরও নিশ্চিতভাবে ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সহায়তা লাভ করতে পারবেন। সরকারের এই অপ্রত্যাশিত ও কড়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।